ফরিদপুরে শহিদুল ইসলাম কালাচান হত্যা মামলায় পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় আসামিদের মধ্যে নূর ইসলাম নামের এক আসামি উপস্থিত ছিল।
রায় ঘোষণার সময় নূর ইসলাম ওরফে নজরুল ইসলাম (৪৪) নামের এক আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মহেষপুরের গ্রামের মো. ইসরাইলের ছেলে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আলফাডাঙ্গা উপজেলার কোনাগ্রামের কবডর শেখের ছেলে মনির শেখ (৩৪), মৃত আকরাম মোল্যার ছেলে ইকতার মোল্যা (৩৩), বোয়ালমারীর বনচাকী গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে এনায়েত আমীন (৩৯) ও কাশিয়ানীর ব্যাসপুর গ্রামের মৃত ইছাহাক শেখের ছেলে মিরাজ ওরফে মিরুজ (৩৯)।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৮ জুলাই সকালে আলফাডাঙ্গার ধুলজুড়ি গ্রামের মৃত ছবুর শেখের ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে কালাচানের (৩০) মরদেহ একটি ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের চাচা আক্কাস শেখ আলফাডাঙ্গা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কালাচান ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই মামলার চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিরাজুল ইসলাম। মামলায় বাদি ও দু’জন পুলিশসহ মোট আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার কোনো পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি। তারা ঘটনার আগের দিন বিকেলে কোনাগ্রামে এক হয়ে একটি ঠেকানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১১টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার দুপাশে গাছের সাথে রশি বেঁধে কালাচানকে ফেলে মোটরসাইকেল আটকায় তারা। এরপর আসামি মনির মোটরসাইকেলটি রাখে আর অন্যরা তাকে ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে তার মৃত্যু হয়।