১৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার বিশ্বের জনসংখ্যা হলো ৮০০ কোটি। প্রতিদিন হাজারো শিশুর জন্ম হলেও বিশেষ এই দিনটিতে ভূমিষ্ঠ হয়ে ৮০০ কোটিতম (প্রতীকী) শিশুর স্বীকৃতি পেল ফুটফুটে এক মেয়েশিশু। নাম তার ভিনিস মাবাসাং। মঙ্গলবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার তোন্দো শহরে জন্ম হলো ভিনিসের। ডক্টর জোস ফাবেলা মেমোরিয়াল নামক একটি হাসপাতালে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে জন্ম নিয়েছে ভিনিস। বিশেষ ক্ষণে জন্ম নেওয়ায় ভিনিস পেয়েছে অন্যরকম এক অভ্যর্থনা। ফিলিপাইনের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশন শিশুটির জন্ম উদযাপন করে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ভিনিস ও তার মায়ের ছবি প্রকাশ করে তারা। ফেইসবুক পোস্টে লেখা হয়, ‘ম্যানিলার তোন্দোতে একটি মেয়েশিশুর জন্মের মাধ্যমে জনসংখ্যার আরেকটি মাইলস্টোনে পৌঁছেছে বিশ্ব। বিশ্বের ৮০০ কোটিতম মানুষের (প্রতীকী) শহর হলো ম্যানিলা।’
জাতিসংঘ এর আগেও বিশ্ব জনসংখ্যার এ-রকম শতক ছোঁয়ার দিনগুলোর বিশেষ শিশুদের নাম তালিকাভুক্ত রেখেছে। আর সেই স্মরণীয় সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের কয়েকজনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। এই প্রতিবেদনে বিশ্বের ৭০০ কোটিতম শিশু হিসেবে এসেছে বাংলাদেশের সাদিয়া সুলতানা ঐশীর নামও। ঢাকার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের আশার আলো হয়ে ২০১১ সালে জন্ম সাদিয়ার। সাদিয়ার বয়স এখন ১১ বছর। পৃথিবীর ৭০০ কোটি জনসংখ্যার মাইলফলকে সাদিয়ার নাম জুড়ে গেছে। সাদিয়ার মা সেদিন ভাবেননি তার সদ্যভূমিষ্ঠ মেয়েটি গণমাধ্যমে খবর হয়ে উঠবে। অথচ সাদিয়ার জন্মের পরই ক্লিনিকের বেডের চারপাশে তাদের ঘিরে ধরেছিলেন গণমাধ্যম আর সরকারি কর্মকর্তারা। সাদিয়ার মা প্রথমে বেশ অবাক হলেও আনন্দিত হন পৃথিবীর নয়া মাইলফলক ছোঁয়া শিশুকে পৃথিবীতে আনতে পেরে।
ভিনিস, সাদিয়ার মতো মাইলফলক ছোঁয়া শিশুরা আসলে সভ্যতায় মানুষের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রতীক। দুর্যোগ, মহামারী, যুদ্ধ ছাপিয়ে বাসযোগ্য এক পৃথিবীর নতুন প্রজন্মের স্মারক। এই বিশেষ দিনে তাই জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল টুইটে লিখেছে, ‘৮০০ কোটি আশা, ৮০০ কোটি স্বপ্ন, ৮০০ কোটি সম্ভাবনা। আমাদের গ্রহ এখন ৮০০ কোটি মানুষের আবাসস্থল।’