বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ (২৩) হত্যা মামলার আসামি তার বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতাউল্লাহ জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের (ডিবি) খিলগাঁও জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মজিবুর রহমান বুশরার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন।
ফারদিন হত্যার ঘটনায় গত ৯ নভেম্বর রাতে তার বাবা নূর উদ্দিন রানা বাদী হয়ে রামপুরা থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় ফারদিনের বান্ধবী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বুশরাসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
ডিবির তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ফারদিন হত্যাকান্ডে বুশরার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। হত্যার কারণ অনুসন্ধান ও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
তবে র্যাবের দাবি, ফারদিনকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি এলাকায় হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলা হয়েছে। বস্তির রায়হান গ্যাংয়ের হাতে খুন হন ফারদিন। তবে খুনের কারণ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি র্যাব। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছে, খুব দ্রুতই সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা রেখেছি। আমার ছেলে হত্যার ন্যায়বিচার হবে বলে আশা করছি। তবে মামলার তদন্তকারীরা আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করে না। এমনকি বুশরাকে কোর্টে তোলার আগে আমাকে জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে হত্যার ন্যায়বিচারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ আশা করছি।’
উল্লেখ্য, বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন ৪ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন রাজধানীর রামপুরা থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কাজী নূর উদ্দিন রানা। ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় মরদেহ। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পায় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা। তারা জানান, ফারদিন হত্যার শিকার হয়েছেন। পরে ৯ নভেম্বর রাতে ফারদিনের বান্ধবী বুশরাসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে ‘হত্যা করে লাশ গুম’ করার অভিযোগে রামপুরা থানায় মামলা করেন ফারদিনের বাবা।