সভাপতি-মহাসচিব পদে ডজনখানেক নাম

আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মুখর এখন চিকিৎসা অঙ্গন। স্বাচিপের আগামী নেতৃত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। কাক্সিক্ষত পদ পেতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তদবির, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ। বিকেল থেকেই ভিড় লেগে থাকছে রাজধানীর পান্থপথে স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক ও চিকিৎসক নেতাদের কাছেও যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। কারণ সভাপতি ও মহাসচিব নির্বাচনে কাউন্সিলররা বরাবরই আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রেখে আসছেন। তিনিই এ দুটি পদে নেতা নির্ধারণ করে দেন। পরে সভাপতি ও মহাসচিবের নেতৃত্বে কমিটির অন্যান্য সদস্য নির্বাচিত হন। এবার সেদিকেই তাকিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকরা।

স্বাচিপ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সভাপতি পদে ৫ ও মহাসচিব পদে ৫ জন করে দুই পদে ১০ জনের নাম বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে কে হবেন সভাপতি ও মহাসচিব তা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর।

স্বাচিপ নেতারা জানান, ২৫ নভেম্বর শুক্রবার স্বাচিপের পঞ্চম জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলন দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হবে।

এর আগে ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর সর্বশেষ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাচিপের চতুর্থ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তখন কমিটি গঠনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ছেড়ে দিয়ে ওইদিন সম্মেলন স্থগিত করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলানকে সভাপতি ও ডা. এমএ আজিজকে মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়।

সম্মেলনের প্রস্তুতির ব্যাপারে স্বাচিপের বর্তমান মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ গত বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এবার সম্মেলনের সময়টা কম পেয়েছি। তাই দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। দুই-তিন দিন ধরে কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেখানে সারা দেশের সংগঠনের নেতাদের সম্মেলনের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আরেকটা বর্ধিত সভা করা হবে। আমরা আশা করছি সম্মেলনে ১৫-২০ হাজার চিকিৎসক উপস্থিত হবেন।’

কীভাবে কমিটি গঠন হবে জানতে চাইলে এ স্বাচিপ নেতা বলেন, ‘সভাপতি ও মহাসচিব পদের সিদ্ধান্ত সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা তার ওপর আস্থা রাখি। তিনি ঠিক করে দেন। পরে সাংগঠনিকভাবে কমিটির অন্যান্য সদস্য নির্বাচন করা হয়।’

স্বাচিপের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালন করি। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেওয়া কর্মসূচি বাস্তবায়নে চিকিৎসক সংগঠন হিসেবে সহযোগিতা করি। জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নে ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করি। করোনার সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছি।’

সবার চোখ সভাপতি-মহাসচিব পদে : এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সভাপতি ও মহাসচিব দুই পদেই পরিবর্তন আসছে এমনটা প্রায় নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসক নেতারা। কিন্তু কে হচ্ছেন স্বাচিপের পরবর্তী সভাপতি ও মহাসচিব, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না কেউ। তবে সভাপতি পদে এখন পর্যন্ত ছয়জনের নাম শোনা যাচ্ছে।

ছয়জনের মধ্যে বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলানকে আরেকবার সভাপতি দেখতে চান তার সমর্থিত চিকিৎসকরা। তাদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে স্বাচিপের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, সাধারণত বর্তমান কমিটির মহাসচিব পরবর্তী কমিটির সভাপতি হন। সে হিসেবে বর্তমান সভাপতি আগামী কমিটিতে থাকছেন না। সে ক্ষেত্রে স্বাচিপ থেকে বাদ পড়লে তাকে আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নির্বাচনে সভাপতির মনোনয়ন দিতে পারে আওয়ামী লীগ। বিএমএ থেকে বাদ পড়তে পারেন বর্তমান সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

অন্যদিকে নতুন কমিটিতে স্বাচিপের বর্তমান মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজকে চান তার সমর্থিত নেতারা। এ চিকিৎসক নেতা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ময়মনসিংহ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন। সে ক্ষেত্রে তার স্বাচিপ সভাপতি পদ নির্ভর করছে সংসদ সদস্যের মনোনয়ন পাওয়ার ওপর। তবে স্বাচিপের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, সংসদ সদস্যের মনোনয়ন দেওয়া না হলে এবার তাকে স্বাচিপ সভাপতি করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মহাসচিব পদে নতুন কেউ আসবেন। তা ছাড়া প্রথা অনুযায়ী স্বাচিপের মহাসচিব পদে যারা থাকেন তারা পরবর্তীকালে সভাপতি হয়ে থাকেন।

দুই পদে ডজনখানেক নাম : স্বাচিপের সভাপতি পদে অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান ও অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজসহ ছয়জনের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। অন্য চারজন হলেন স্বাচিপের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও প্রখ্যাত নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক উপাচার্য ও প্রকৃচির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ এবং আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা।

অন্যদিকে মহাসচিব পদেও অন্তত পাঁচজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন স্বাচিপের বর্তমান কোষাধ্যক্ষ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, স্বাচিপের কেন্দ্রীয় নেতা ও বিএসএমএমইউর নিউরোসার্জারি বিভাগের ডিন ও নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলোজি বিভাগের অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী শাকিল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জুলফিকার আলী লেলিন ও ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে দুজনের নাম বেশি আলোচনায় এসেছে। তারা হলেন অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির ও অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন। স্বাচিপ নেতাদের মতে, দুজনই আওয়ামী লীগের চিকিৎসক রাজনীতিতে নিবেদিত।