দৈনন্দিন জীবনে আমরা কত কাজই করি। চলাফেরা থেকে শুরু করে চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি ইবাদত-বন্দেগি করি। আমাদের সব কাজ কি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য হয়? আমরা কি কখনো এ বিষয়ে চিন্তা করেছি? পবিত্র কোরআনের সুরা আনআমে আল্লাহপাক বলেন, ‘বলো, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন-মরণ সবকিছু হে আল্লাহ একমাত্র তোমারই জন্য।’
মুমিনের জীবনের লক্ষ্য কী হতে পারে তা পবিত্র কোরআনের এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট। মুমিনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিষয়ে একই সুরার অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘প্রকৃত মুমিনরা বলবে আমি একনিষ্ঠভাবে তার দিকে মুখ ফেরাচ্ছি, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।’
আমাদের সব ভালো কাজ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়ে থাকে তাহলে মনে কোনো ধরনের দুঃখ থাকে না, কষ্ট থাকে না। কিন্তু তা যদি অন্যের সন্তুষ্টি কিংবা মানুষের বাহবা পাওয়ার জন্য হয়ে থাকে তবে তাতে যেমন খুশি করা সব সময় সম্ভব হয় না, তেমনি মনে কষ্টও হয়। আর মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন কোনো মুমিনের লক্ষ্য থাকা ঠিক নয়। আমি, আপনি যতই তোষামোদি কিংবা মানুষের সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিই না কেন আল্লাহর কাছে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। বরং আল্লাহই আপনার ভালো কাজে সন্তুষ্ট হবেন। তিনিই ভালো কাজের পুরস্কার দুনিয়া ও আখেরাতে দেবেন।
আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন প্রশংসা না করলে বিরক্ত হন কিংবা প্রচার না পেলে দুঃখ করেন। সেটা ঠিক নয়। হ্যাঁ, আমার একটা ভালো কাজ যদি প্রচারের কারণে অন্যরা উদ্বুদ্ধ হন তবে তাতে দোষের কিছু থাকে না, কিন্তু কাজটি হওয়া উচিত আল্লাহকে খুশি করার জন্য। তিনি যদি খুশি হয়ে যান তাহলে আপনি সফল।
যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে তার জন্য আখেরাতের সফলতা অবধারিত হয়ে যায়। শুধু আখেরাতের সফলতাই শেষ নয় বরং যে মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্য নেয় তার সঙ্গে সঙ্গে তার আল্লাহর সন্তুষ্টি জাগতিক জীবনও কল্যাণ ও বরকতে ধন্য হয়। আল্লাহ তার চলার পথকে সহজ করে দেন। তার জন্য রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টির বিনিময়ে (হলেও) আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ মানুষের দায়িত্ব নির্বাহে তার সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তাকে মানুষের ওপরই সোপর্দ করে দেন।’ জামে তিরমিজি
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে আমাদের নেক আমল করতে হবে। যে কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন, এমন কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশিত পথ ও মতকে প্রাধান্য দিতে হবে সব কাজে। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠন করতে হবে। নিজের ধ্যান-ধারণার বশবর্তী না হয়ে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর আদেশ ও নিষেধকে মেনে চলে জীবনযাপন করতে পারলে ধন্য হবে আমাদের জীবন, খুশি হবেন আল্লাহতায়ালা। দুনিয়া ও আখেরাতে পাব সফলতা।
আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য আমাদের জিহ্বা, অন্তর, কাজ এবং অবস্থার মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। এক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! নিশ্চয়ই ইসলামের বিধিবিধানগুলো আমাদের ওপর আধিক্যতা লাভ করেছে। তাই আমাদের এমন এক ব্যাপক বিষয় শিক্ষা দিন যা আমরা আঁকড়ে ধরব।’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর স্মরণে ভেজা থাকে।’ সুনানে ইবনে মাজাহ
পাশাপাশি যাবতীয় কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। আল্লাহর ভয় নিয়ে কাজ করতে পারলে সত্য ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে তার সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব হবে।
আল্লাহর হুকুম এবং রাসুল (সা.)-এর পদ্ধতি অনুযায়ী আমল করলে সে আমল আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে। দুনিয়ার যশ-খ্যাতি এবং কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়া, ভালো চাকরি করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশ দক্ষ হওয়া, এগুলোর কোনোটিই তার ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়।
একজন ইমানদারের সর্বশেষ ঠিকানা এবং চিরস্থায়ী সুখ ও শান্তির জায়গা হলো জান্নাত। জান্নাতের অধিবাসীদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।