চলচ্চিত্রের মন্দা এক দিনের নয়। বছরের পর বছর ঢালিউডে মন্দা রয়েই গেছে। বছরে দুই-একটা ছবি আশার আলো দেখায়, আবার অবস্থা আগের মতোই হয়ে যায়। করোনার আবির্ভাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দাপট শুরু হওয়ায় অনেকেই ভাবছিল সিনেমা হল বুঝি আর টিকবেই না। এমন সময় ঢালিউডের অল্প বাজেটের সিনেমা ‘পরাণ’ মুক্তি পায়। আর সবাইকে চমকে দিয়ে ছবিটি সুপারহিট হয়। সঙ্গত কারণেই এ ছবির কলাকুশলীরা উঠে আসেন আলোচনায়। বিদ্যা সিনহা মিম এক যুগের বেশি সময় ধরে সিনেমায় অভিনয় করছেন। তবে সিনেমা ক্যারিয়ারে তার সর্বোচ্চ সাফল্য এই ‘পরাণ’। অন্যদিকে শরিফুল রাজ অল্প কিছু ছবিতে অভিনয় করলেও ঠিক জমাতে পারছিলেন না। ‘পরাণ’ দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পান। সব মিলিয়ে মিম-রাজ জুটিকে দর্শক আবারও পর্দায় দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেন ‘দামাল’ সিনেমায় আরেকবার একসঙ্গে পর্দায় ফিরে। এই ছবিটিও বেশ ভালো ব্যবসা করেছে। পরপর একই জুটির দুটি হিট ছবি, চলচ্চিত্রের এই মন্দা সময়ে দারুণ আশা জাগানিয়া। সারা বিশে^ই জুটিপ্রথা বলতে একটা বিষয় আছে। যা দর্শককে সিনেমা হলে টেনে আনে। এখনো বলিউডে শাহরুখ খান-কাজল, সালমান খান-ঐশ^রিয়া রাই, রণবীর কাপুর-দীপিকা পাড়–কোন পর্দায় এলে দর্শকের আলাদা আগ্রহ দেখা যায়। আমাদের দেশেও রাজ্জাক-কবরী, ববিতা-জাফর ইকবাল, সালমান শাহ-শাবনূর, নাঈম-শাবনাজ, ওমর সানি-মৌসুমী, শাকিব খান-অপু বিশ^াস জুটি বেঁধে অনেক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছিলেন। তাই মিম-রাজ জুটিকে নিয়েও দর্শকের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দর্শকের সেই আশা মনে হয় না আর বেশিদিন বজায় থাকবে। কারণ, এরই মধ্যে এই জুটির ভাঙনের সুর বেশ জোরালোভাবেই শোনা যাচ্ছে। এর পেছনে দায়ী করা যেতে পারে রাজের স্ত্রী আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি, কিংবা এই জুটির ব্যক্তিগত সম্পর্ককে।
বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে শরিফুল রাজের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সরব চলচ্চিত্রপাড়া। শরিফুল রাজের স্ত্রী পরীমণি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে পোস্টও করেছিলেন। বিদ্যা সিনহা মিমও দিয়েছিলেন পাল্টা পোস্ট। পরে অবশ্য মিম তার পোস্টটি মুছে ফেলেন। পরীও হয়ে গেছেন শান্ত। এর মধ্যেই জানা গেল নতুন খবর, আবু রায়হান জুয়েলের ‘পথে হলো দেখা’ ছবিতে মিম অভিনয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেও রাজি হলেন না রাজ! বিষয়টি নিয়ে জুয়েল বলেন, ‘মিমকে বেশ আগেই আমি চুক্তিবদ্ধ করেছিলাম। ছবিটির জন্য পারফেক্ট নায়ক খুঁজছিলাম। ‘পরাণ’ হিট হওয়ার পর মনে হয়েছে মিমের সঙ্গে রাজকে নিলে ভালো হবে। আমি রাজকে প্রস্তাব দিলাম। কিন্তু সাড়া না পেয়ে পরীকে জানালাম। পরী আমাকে বাসায় ডেকে রাজের সঙ্গে বসালেন। গল্প শোনার পর রাজ কেন যেন রাজি হলেন না! আমার কাছ থেকে আরও সময় চেয়ে নিয়েছেন। সত্যি বলতে, রাজ ছবিটি না করলে অবশ্যই অন্য কাউকে নিয়ে করতে হবে। অযথা সময় নষ্ট করে তো লাভ নেই।’ রাজ ছবিটি করছেন না, কথাটা জানার পর মিম বলেন, ‘আমার সঙ্গে নায়ক কে হবেন সেটা নির্মাতার ব্যাপার। আমি তো নায়ক দেখে নয়, আমার চরিত্র ও গল্প দেখে ছবিটি করতে রাজি হয়েছি। নির্মাতা আমার বিপরীতে যাকে নেন আমার আপত্তি নেই। এ বিষয়ে আমার মাথা ঘামানোর দরকারও নেই।’