এই দিনে

শিক্ষাবিদ, লোকসাহিত্যবিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার দীনেশচন্দ্র সেনের জন্ম মানিকগঞ্জের বগজুরি গ্রামে ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর। তার বাবার নাম ঈশ্বরচন্দ্র সেন এবং মা রূপলতা দেবী। তার কর্মজীবন শুরু হয় ১৮৮৭ সালে সিলেটের হবিগঞ্জ স্কুলে। পরে তিনি কুমিল্লার শম্ভুনাথ ইনস্টিটিউশন ও ভিক্টোরিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদে যোগদান করেন। ১৮৯০ সালে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গ্রন্থ ‘কুমার ভূপেন্দ্রসিংহ’। কুমিল্লায় অবস্থানকালে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুঁথি সংগ্রহ করেন। ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ শীর্ষক আকরগ্রন্থ, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ সমকালের পণ্ডিতদের প্রশংসা লাভ করে। ১৯১০ সালে মনোনীত হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য। ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে তিনি মৈমনসিংহ গীতিকাসহ পূর্ববঙ্গ গীতিকা এবং এর ইংরেজি ভাষ্য সংকলন ও সম্পাদনা করেন। ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন এবং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পাঠ্যগ্রন্থও প্রণয়ন করেন। ১৯৩২ সালে তিনি অবসর নেন। সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি ১৯২১ সালে রায়বাহাদুর উপাধি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।