বিশ্বকাপের ৩২ দলের ট্যাকটিস ও স্ট্র্যাটেজি কতটা কাজে লাগবে বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা বিশ্লেষক সাইফুল বারী টিটু তার লেখায় আলোচনা করেছেন সেসব নিয়েই।
নতুন কেউ কি এবার বিশ্বকাপ জিতবে? গত দুটি আসরে পুরনোরাই শিরোপা জিতেছে। ২০১০ সালে সবশেষ নতুন চ্যাম্পিয়নের দেখা মেলে। এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন দলের সংখ্যা যে আট, এই তথ্যই বলে দেয় বিশ্বকাপ আসলে নির্দিষ্ট কিছু দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই নতুন কেউ চ্যাম্পিয়ন হলে খারাপ কি! আবার দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বকাপের ট্রফিটা ইউরোপে রয়েছে। ২০০২ সালে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হলো। এরপর চারটি আসরে ইউরোপের চার দেশ চ্যাম্পিয়ন। সেই দিক থেকে ট্রফিটা এবার ইউরোপ থেকে সরলে খারাপ হয় না।
কিন্তু এটা তো বিশ্বকাপের মঞ্চ। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে একাধিক দেশ চ্যাম্পিয়নের শক্ত দাবি নিয়ে আসছে। খুব সহজভাবে কেউ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে, এটা বলার উপায় নেই। তবে ফেভারিটের তালিকায় এবার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থাকছে ওপরের দিকে। গত দুই আসরের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়াও থাকবে। সঙ্গে রাশিয়ায় সেমিফাইনাল খেলা ইংল্যান্ডকেও আমি রাখব। কেন জানি মনে হচ্ছে সেমিফাইনাল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে পড়তে পারে। আরেকটা হয়তো ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া বা ক্রোয়েশিয়া-ইংল্যান্ড পড়তে পারে। সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালিস্টের কথা বললে এদের সঙ্গে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের নাম আসবে। নেদারল্যান্ডস এবার ডার্ক হর্স হতে পারে। যেহেতু ওরা গত বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্কও বিপজ্জনক হতে পারে এবার। বেলজিয়ামের জন্য হয়তো এটাই শেষ সুযোগ। ওদের বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রা সরে যাওয়ার পর নতুন প্রজন্ম এতটা কার্যকরী হবে কি-না এ নিয়ে সংশয় আছে। এখন দলগুলোর স্ট্র্যাটেজি বা কৌশল কেমন হয়, মাঠে কোচদের ট্যাকটিসের বাস্তবায়ন কতটা ঘটে এগুলোর ওপর সাফল্য নির্ভর করবে অনেকটা।
স্ট্র্যাটেজি আসলে একটা ম্যাচ জেতার জন্য ওভারঅল প্ল্যান। এটা একেক দলের সঙ্গে একেক রকম হতেই পারে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এটা একটু বেশি বলব। সবশেষ দুটি ফাইনাল খেলেছে তারা কোপা ও ফিনালিসিমা। এই দুই ফাইনালে কোচ তাদের দুই রকম ফর্মেশনে খেলিয়েছে। কোপাতে ৪-৪-২; যেটায় ডি মারিয়া অনেকটা লাওতারো মার্টিনেজের সঙ্গেই খেলেছিল। আবার ফিনালিসিমায় একদম পিওর ৪-৩-৩ খেলেছে। তাই বলব, স্ট্র্যাটেজি মূলত প্রতিপক্ষ দেখে ঠিক হবে। তবে খুব বাজে একটা সময়ে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নিয়েছিল। এখন দলকে এমনটা জায়গায় সে নিয়ে গেছে, যেখান থেকে তারা লড়াই করতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় এই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভ্যারিয়েশন আছে। ৪-৩-৩ যদি ওদের ফর্মেশন ধরি, নিঃসন্দেহে প্রত্যেকটা পজিশনেই তাদের বেশ ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে। গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের থাকবে। ডিফেন্সে মার্কোস আকুনা, নিকোলাস ওটামেন্ডি, রোমেরো, মোলিনার কথা আসবে। লাউতারো মার্তিনেজ প্রধান স্ট্রাইকার থাকবে। একপাশে হয়তো ডি মারিয়া থাকবে। মেসির রোল অনেক রকমের হয়। মেসিকে অনেকটা ফ্রিডম দেওয়া হয়। মেসিকে প্রোটেক্ট করে অন্যরা পারফর্ম করে। এখানে খুব ভাইটাল রোল প্লে করবে ডি পল। যে বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার। ওদের ট্যাকটিসের আরেকটা প্রধান দিক- ফুলব্যাক পজিশনগুলো ওভারল্যাপ যতটা না করে, ডিফেন্ডিং ওয়ার্কটা বেশি করে। সেই হিসেবে ওদের রোটেশন অব পজিশনের মতো জিনিসগুলো বেশ কাজে দেবে। অনেক ধরনের মিডফিল্ডার আছে ওদের। লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও গুইদো রদ্রিগেজ এরা একদম হোলিং মিডফিল্ডার। অ্যাঙ্কর টাইপের। আবার রদ্রিগো, ডি পল, পালাসিওর কথা বলি, এরা বক্স টু বক্স খেলে। লো সেলসো যেহেতু ইনজুরির কারণে নেই, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্তার এখানে চমক হতে পারে। দিন শেষে তো অবশ্যই মেসি কেমন করবে সেটা বড় হয়ে দাঁড়াবে। ফিনালিসিমার ফাইনাল আমার দেখা মেসির অন্যতম সেরা ম্যাচ। ওভারঅল বল পজিশন রাখা, একদম নিচে নেমে ডিফেন্ডিং করা। সব পজিশন মিলিয়ে ব্যালেন্সড একটা দল মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। তাদের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার।
ব্রাজিলের কথায় যদি আসি। খেলার ধরনে আগের ব্রাজিল ও বর্তমান ব্রাজিল ভিন্ন। কাফু, রবার্তো কার্লোস যে রকম ওভারল্যাপ করত, ডিফেন্ডিংটা আরও ভালো করার জন্য ওই ধারা থেকে ব্রাজিল কিছুটা সরে এসেছে। দেখা যাচ্ছে ওরা ওভারল্যাপ করলে ওদের জায়গাগুলো খালি হচ্ছে। আক্রমণটা তখন প্রতিপক্ষের হয়। এখন যে দল খেলছে, ওদের দুই ফুলব্যাকের কেউ এলে খুব বেশি আক্রমণে যায় না। প্রয়োজনে যাবে এবং সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য যাবে। সব সময় ওঠানামা করবে না। এই দলের এটা একটা উল্লেখযোগ্য দিক এবং দেখে মনে হচ্ছে, নেইমার পুরোপুরি মিডফিল্ডার হিসেবে খেলছে। ফরোয়ার্ড না। এখানে কিছু প্রশ্ন থাকতেই পারে। থিয়াগো সিলভা, এদের মিলিতাওয়ের ফিট থাকা নিয়ে। আমার ধারণা ওদের মূল ট্যাকটিসটা ৪-৩-৩ হলেও অনেকটা ৪-২-৩-১ এর মতো হবে। যেটাতে দেখা যাবে লুকাস পাকেতা উইং ব্যবহার করে আবার ভেতরে চলে আসবে। নেইমার উইংয়ে চলে যাবে, আবার ভেতরে চলে আসবে। এই জিনিসটার ভ্যারিয়েশনস থাকবে। ভিনিসিউস জুনিয়র আছে, যে অনেক স্পিডি খেলোয়াড়। আসলে সাম্প্রতিক অতীতে ব্রাজিল দলে এত প্রতিভাবান খেলোয়াড় আমরা কমই দেখেছি। ওপরের দিকে রিচার্লিসন হয়তো তাদের নাম্বার নাইন পজিশনে খেলতে পারে। নেইমারেরও মেসির মতো ফ্রিডম থাকবে খেলার। লেফট উইং, স্ট্রাইকার সব পজিশনেই দেখা যাবে তাকে। কাসেমিরো, ফ্রেড হয়তো ব্যালেন্সডটা রাখার চেষ্টা করবে টিমের। কাসেমিরো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিয়মিত ছিল না। এই জিনিসটা ব্রাজিলের জন্য কিছুটা ডিসঅ্যাডভান্টেজ। সেন্টারব্যাকে ওদের অনেক খোলোয়াড়ই আছে। দেখার বিষয় হবে যে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারা কী করে। নতুন কোনো ট্যালেন্ট আমরা দেখব কি না এটাও দেখার হবে। কোচ তিতের জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জও হবে, যেহেতু সে অনেকদিন ধরে আছে। সলিড অভিজ্ঞ ডিফেন্স আছে ব্রাজিলের। মিডফিল্ডে ট্যালেন্ট ও অভিজ্ঞতা কম্বাইন্ড করাটা ব্যাপার হবে। সবচেয়ে দেখার হবে যে টপ খেলোয়াড়দের নিয়ে আক্রমণভাগটা কীভাবে কম্বাইন্ড করবেন তিতে। কারণ ট্যালেন্টেড খেলোয়াড় থাকলেই কিন্তু শেষ হচ্ছে না। কাকে কার সঙ্গে দিলে বেস্ট আউটপুট আসবে, এই দলের সেটাই হবে চ্যালেঞ্জ।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স নেশন্স লিগে খুব বেশি ভালো করেনি। তবে ওদের খেলায় কিছু নতুনত্ব চোখে পড়েছে। ওদের আগের ফর্মেশনকে ৪-২-৩-১ বলা যেত। এখন বেনজেমা আসাতে তিনটা সেন্টারব্যাক নিয়ে খেলেছে ওরা। ৩-৪-১-২ এর মতো। এটা বেশ ইন্টারেস্টিং ফর্মেশন হবে। একদম ওপরে বেনজেমা ও এমবাপে পুরোপুরি স্ট্রাইকারের ভূমিকায় থাকবে। গ্রিজমান পেছন থেকে সহায়তা করে। ভারানের যেহেতু চোট সমস্যা আছে, ও খেলতে পারবে কি-না এটা একটা বিষয়। আমার ধারণা ওই জায়গায় আর্সেনালের ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা আসতে পারে। ওর বয়সও কম। এটা শাপে বরও হতে পারে ওদের জন্য। তিনটা স্টপারের সামনেও তরুণ খেলোয়াড় দেখা যেতে পারে। যেহেতু পগবা নেই, কন্তেও থাকবে না। রিয়ালের এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, অহেলিয়া চুয়ামেনি থাকবে। দুই জনই সলিড মিডফিল্ডার। দেশমের ট্যাকটিসে নতুন আইডিয়ার দেখা মিলছে। তবে এটাও বলতে হবে, দেশম যে রকম কোচ, সে প্রতিপক্ষ দেখে ফর্মেশন ঠিক করে। এই পর্যায়ে অবশ্য খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগও নেই। তবে তাদের অনেক বেশি প্রতিভাবান ফুটবলার আছে। এটা চিন্তাও করা যায় না যে এত প্রতিভাবান খেলোয়াড় একটা দলে থাকতে পারে। দলের মধ্যে হারমনিটা ঠিক থাকলে ফ্রান্স অবশ্যই ভালো করবে।
গ্যারেথ সাউথগেট ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪-২-৩-১ থেকে পরে ৩-৪-৩ এ চলে গেছে। গত বিশ্বকাপ ও ইউরো দুই টুর্নামেন্টেই এই ফর্মেশনে খেলেছে ইংল্যান্ড। প্রিমিয়ার লিগকে বিশ্বের সেরা লিগ ধরা হয়। এজন্য আগের ইংল্যান্ডের চেয়ে সাউথগেটের ইংল্যান্ড ভিন্ন। যদিও ওদের রিসেন্ট রেজাল্ট ভালো না। নেশন্স লিগে খুবই বাজে খেলেছে। কিন্তু গত দুইটা মেজর টুর্নামেন্টের একটাতে সেমিফাইনাল খেলা, একটাতে ফাইনাল খেলা- এটা মোটেও সহজ বিষয় নয়। হ্যারি কেইন, রহিম স্টার্লিং, ফিল ফোডেন, জ্যাক গ্রিলিসের মতো খেলোয়াড় আছে ওদের। তাই ইংল্যান্ডকে আমাদের ফেভারিটের তালিকায় রাখতেই হবে। অতীতে অবশ্য আমরা দেখেছি শেষ মুহূর্তে গিয়ে ইংল্যান্ড আর পারে না। এই জায়গাটাতে তাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখে পারফর্ম করাটা জরুরি। তবে অবশ্যই তারা এমন দল যারা সহজেই সেমিফাইনালে যেতে পারে।
ক্রোয়েশিয়া তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে দারুণ একটা দল। মদ্রিচের নেতৃত্বেই খেলবে তারা। গত বিশ্বকাপে যেটা দেখেছি, অনেক সময় ৪-২-৩-১ খেলেছে, অনেক সময় ৪-৩-৩ খেলেছে। এবার হয়তো ৪-৩-৩ খেলবে। রক্ষণে কিছু নতুন মুখ আসছে। বাছাইপর্বে দেখেছি তরুণরা ভালো করছে। মদ্রিচ ও মাতেও কোভাচিচ দুজনই বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার। ইভান পেরিসিচ, আন্দ্রেই ক্রামারিচ ওপরে খেলবে। মদ্রিচ তার ভূমিকা কী রাখবে সেটা বড় ব্যাপার হবে। ওর বয়সটাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। তরুণরা অভিজ্ঞদের সঙ্গে কীভাবে কম্বাইন্ড করে, সেটাও দেখার হবে। একটা ব্যাপার যে- এই দলটার মধ্যে মেন্টাল স্ট্যাবিলিটি খুব হাই। গত বিশ্বকাপে দুই বা তিনদিন পর পর ম্যাচ খেলেছে। অতিরিক্ত সময়েও খেলেছে। ফাইনালে গিয়ে যদিও চার গোল হজম করেছে। কিন্তু কখনো মনে হয়নি ওরা টায়ার্ড। কোচ জøাতকো দালিচ দলকে এই জায়গাটায় খুব ভালোভাবে সামলাতে পারে। গতবারের মতো এবারও ফাইনালে যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের। তবে গতবারের রানার্সআপ, এই আত্মতুষ্টিতে ভুগলে মূল্য দিতে হতে পারে।
বেলজিয়ামকে নিয়ে যেটা বলেছি, এটাই শেষ সুযোগ। অবশ্যই দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে তাদের। ডি ব্রুইন, লুকাকু, কোর্তোয়া রয়েছে। ইডেন হ্যাজার্ড কেমন করে সেটা দেখার হবে। কারণ ক্লাবের হয়ে ও নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। রবার্তো মার্টিনেজ কোচ হওয়ার পর কিছু ট্যাকটিক্যাল ভ্যারিয়েশন দেখিয়েছে। প্রথমার্ধে এক ধরনের, দ্বিতীয়ার্ধে এক ধরনের। ৩-৪-৩ টা তাদের ট্রেডমার্ক হয়ে গেছে। তবে গত ইউরোতে দেখা গেছে ৩-৪-২-১ খেলেছে অনেকটা। স্পেন তাদের চিরায়ত যে ফর্মেশন ৪-৩-৩, এটা এখনো ধরে রেখেছে। ওরা তিকিতাকা খেলবেই। সত্যি বলতে এখনো ওদের মতো এগ্রেসিভ বল পজিশন রাখা দল বিশ্বে নেই। তবে সবচেয়ে বড় যে অভাব, মিনিমাম দশটা সুযোগ তৈরি করবে তারা। কিন্তু গোল করার লোক নেই। এটা তাদের একটা সমস্যা হবে। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনালে খেলার মতো সামর্থ্য তাদের আছে।
নেদারল্যান্ডসের ডাগআউটে লুই ফন গাল ফিরে আসার পর ২০১৪ বিশ্বকাপের ফর্মেশন ফিরিয়ে এনেছেন। অনেকটা ৩-৫-২ বা ৫-৩-২ বলা যায়। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, ক্লাসেন, ডিপাইয়ের মতো খেলোয়াড় আছে। এই দল যে কোনো সময় ৪-৩-৩ ফর্মেশনেও যেতে পারে। গ্রুপ পর্বে ওরা কী করে সেটা দেখার হবে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা বড় ব্যাপার ওদের জন্য। অবসরের আগে ফন গাল এই দল নিয়ে শেষ চেষ্টাটা করবে।
প্রশ্ন আসতে পারে, জার্মানিকে নিয়ে কেন বলা হচ্ছে না কিছু? বিশ্বকাপে জার্মানির রেকর্ডই বলে ওদের সামর্থ্য কেমন। তবে এবার যে ফর্ম নিয়ে খেলতে গেছে দলটা, তাতে ওদের নিয়ে বড় প্রত্যাশা আসলে করা যাচ্ছে না। ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ওদের গোল্ডেন জেনারেশনের অনেকেই খেলা ছেড়ে দেন। সেই জায়গাগুলোতে রিপ্লেসপেন্ট আসলে সেভাবে হয়নি। গোল করার ক্ষেত্রে এখনো মুলারই ওদের ভরসা। নেশন্স লিগেও ভালো করেনি দলটি। সব মিলিয়ে বড় কিছু আশা করা যায় না তাদের কাছ থেকে। তবে এটাও ঠিক, এই টিম নিয়েই একটা কম্বিনেশন গড়ে চেষ্টা চালাবেন হান্সি ফ্লিক।