কলকাতার টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা আর নেই। গতকাল দুপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ২৪ বছর। মাঝখানে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঐন্দ্রিলার অবস্থা স্থিতিশীল। কিন্তু ১৭ নভেম্বর জানা যায়, রক্তচাপ ওঠানামা করছে অভিনেত্রীর। সংক্রমণের জন্য কড়া কড়া ওষুধও চলছিল। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন বলিউডের প্রখ্যাত গায়ক আরিজিৎ সিং। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ঐন্দ্রিলার শরীর পুরো অসাড়। রবিবার রাতে ১০ বার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অবশেষে ২০ দিনের লড়াই শেষে চলে গেলেন ঐন্দ্রিলা। দুইবার ক্যানসারের চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছিলেন ঐন্দ্রিলা শর্মা। সুস্থ হওয়ার পরই ছোট পর্দার জনপ্রিয় শো ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’-এর মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন। তার ক্যানসার জয়ের গল্প অনুপ্রাণিত করেছিল ভক্তদের। এরপর জি-বাংলা অরিজিনালের ছবি ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-তে দেখা গিয়েছিল তাকে। ‘ভাগাড়’ ওয়েব সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঐন্দ্রিলা। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ১৭তম জন্মদিনে জানতে পারেন, শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্যানসার। তখন একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। চিকিৎসকরা বলে দেন, হাতে বেশি সময় নেই। তিনি ভেঙে পড়েননি, প্রায় দেড় বছর পর সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন। ২০১৭ সালে ‘ঝুমুর’ ধারাবাহিক দিয়ে অভিনেত্রী হিসেবে ছোট পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু চার বছর পর জীবন তাকে আবারও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। আবারও জন্মদিন পালনের পরপরই পান দ্বিতীয়বার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর। এবার করতে হবে জটিল অস্ত্রোপচার। ভেঙে পড়েননি ঐন্দ্রিলা। ঠিকই সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন কাজে। চেয়েছিলেন কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকায় কঠিন রোগের সঙ্গে লড়ার প্রেরণা খুঁজে নিতে। কিন্তু ১ নভেম্বর হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ২০ দিনের সংগ্রাম। অবশেষে গতকাল দুপুরে চলে গেলেন ছোট পর্দার এই জনপ্রিয় মুখ।
ক্যানসার থেকে সেরে ওঠার পর এক সাক্ষাৎকারে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হিসেবে শ্যুটিং ফ্লোরকেই অভিহিত করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘শ্যুটিংয়ে ফিরে ভালো লাগছে। এটিই আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। শ্যুটিং করতেই ভালোবাসি। শ্যুটিং থেকে দূরে থেকে খুব খারাপ ছিলাম। আসলে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর যে কাজ করতে পারব, সেটা ভাবিনি। এটিই জীবনের বড় পাওয়া।’