ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে হতাহতদের বেশিরভাগই স্কুলশিক্ষার্থী শিশু

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে সোমবারের ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই স্কুলশিক্ষার্থী। স্কুলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে বসে লেখাপড়া করার সময়ই শুরু হয় ভূমিকম্প। একাধিক শ্রেণিকক্ষ ধসে পড়লে ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে তারা। যে কারণে হতাহতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারীরা।

শ্রেণিকক্ষে থাকা এমনই একজন ১৪ বছরের আপ্রিজাল মুলিয়াদি। বিবিসি-কে সে জানায়, ভূমিকম্পের সময় শ্রেণিকক্ষ ধসে পড়লে ধ্বংস্তুপের নিচে সে চাপা পড়ে। আপ্রিজাল মুলাইদি (১৪) বলেছে, ‘ভূমিকম্পে পুরো কক্ষটি ধসে পড়ে। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আমার পা চাপা পড়ে যায়।’ একপর্যায়ে বন্ধু জুলফিকার তাকে ধাক্কা দিয়ে নিরাপদে সরিয়ে দিলে সে বেঁচে যায় বলে জানায় আপ্রিজাল মুলাইদি। কিন্তু আটকে পড়া জুলফিকার সেখানেই প্রাণ হারায়।

আপ্রিজাল মুলাইদি আরও জানিয়েছে, ভবনের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ায় লোকজন আটকা পড়ে যায়। সবকিছুই খুব দ্রুত ঘটে।

ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই স্কুলশিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত করেছেন ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার (বিএনপিবি) সদস্য হেনরি আলফিয়ানদি। তিনি বলেছেন, হতাহতদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি ছিল। কারণ, বেলা একটার দিকে তারা সবাই স্কুলে ছিল।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২১ মিনিটে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল পর্বতবেষ্টিত সিয়ানজুর শহরের কাছে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটি ৭৫ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে দেশটির রাজধানী জাকার্তায়ও অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পে পশ্চিম জাভা প্রদেশের সিয়ানজুড় শহরের কাছের কয়েকটি গ্রাম ভূমিধসে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ভূমিকম্পে সিয়ানজুর ও জাকার্তাসহ অন্যান্য শহরে ২ হাজার ২ শ’র বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা সংস্থা।

বিধ্বস্ত বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ে অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জোর দিতে উদ্ধারকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। 

২৭ কোটি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া তথাকথিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলার (প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার) ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েক হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এ অঞ্চলটিতে ভূত্বকের কয়েকটি পৃথক টেকটোনিক প্লেট এসে মিলিত হওয়ায় এখানে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের মতো ঘটনা ঘটে।