বদলে যাচ্ছে সৌদি আরব। এখন সৌদি আরবেও হ্যালোউইন উৎসব পালন হয়, কনসার্ট হয়। বদলে গেছে সৌদি আরবের ফুটবল দলও। সৌদি আরব এখন শুধু গোল হজম করে না, গোলও দেয়, হারিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকেও।
১৯৯৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপে খেলে সৌদি আরব, প্রথম আসরেই তারা হারিয়ে দিয়েছিল এনজো শিফোর বেলজিয়ামকে। এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রতিটা আসরেই খেলেছে ‘গ্রিন ফ্যালকন’রা, মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল বিশ্বকাপে মূলপর্বে আসতে না পারলেও রাশিয়া বিশ্বকাপে আর কাতারে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে সৌদিরা। নতুন কোচ হার্ভে রেনাঁর হাতে বদলেও গেছে। এখন আর সৌদি আরব প্রতিপক্ষ মানেই বড় দলের জন্য টার্গেট প্র্যাকটিসের মঞ্চ নয়, বরং আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে হারিয়ে সৌদি আরব জানান দিল এখন থেকে আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই তাদের।
সৌদি আরবের কোচ রেনাঁ এর আগে কোচিং করিয়েছেন মরক্কো, আইভরি কোস্টের মতো দলে। বিশ্বকাপের চাপ কেমন সেটা এই ফরাসি ভালোই জানেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অভাবনীয় জয়ের পরও রেনাঁ তাই শিষ্যদের বলছেন পা মাটিতে রাখতে, ‘আকাশের সব তারা এক রেখায় চলে এসেছিল আমাদের জেতানোর জন্য। এটাই ফুটবল, এখানে মাঝে মাঝে এমন সব পাগুলে ব্যাপার স্যাপার হবেই। আমরা স্রেফ ২০ মিনিট ধরে উদযাপন করতে পারি, এরপর পরবর্তী ম্যাচের জন্য তৈরি হওয়ার পালা’ আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেওয়ার পর জানিয়েছেন রেনাঁ।
শুরুতেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল, পেনাল্টিতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া... ভাগ্যকে হয়তো প্রথমে দোষই দিচ্ছিলেন রেনাঁ। কিন্তু এরপর ভাগ্য যেন মুখ ফিরে চাইল, টানা তিনটা গোল অফসাইডে বাতিল হলো আর্জেন্টিনার। বিরতির পর সৌদি আরবের দুটো দারুণ গোল, সৌদি গোলরক্ষকের দুটো দারুণ সেভ তাদের এনে দিয়েছে মনে রাখার মতো এক জয়। রেনাঁ বললেন, ‘বিশ্বকাপে আসলে বিশ্বাসটা রাখতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে, ফুটবলে যেকোনো কিছুই হতে পারে।’
গত বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে ফরাসিদের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা, এবারও এক ফরাসিই আর্জেন্টিনার হারের পেছনে পালন করেছেন প্রধান ভূমিকা। রেনাঁ বললেন, প্রথমার্ধের চেয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ভালো করেছে তার দল ‘কৌশলগত ভাবে প্রথমার্ধে আমরা খুব একটা ভালো ছিলাম না। আমাদের ব্লক ভালোই ছিল, তবে আমরা লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং ওদের সেন্টারব্যাকদের ওপর খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করতে পারিনি। তখন যদি আমরা একটা গোল হজম করে বসতাম, তাহলে ওখানেই আমাদের খেল খতম।’
মধ্যবিরতিতেই শিষ্যদের তাতিয়ে দিয়েছিলেন রেনাঁ, ‘বিশ্বকাপে খেলতে এসেছ, একটা অধ্যবসায় থাকতে হবে। এভাবে খেলবে দ্বিতীয়ার্ধে? এসবই বলেছি’ জানিয়েছেন সৌদিদের কোচ। ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। নিজেদের প্রচেষ্টার সঙ্গে আর্জেন্টিনার হালকা ঢিলেমির দিকেও আঙুল তুললেন রেনাঁ, ‘অনেক সময় প্রতিপক্ষ শতভাগ দিয়ে খেলে না, এমনটা ছোট দলের বিপক্ষে খেলার সময় আমাদেরও হয়।’
কিছুদিন আগেই সৌদি আরবের পর্যটন কর্র্তৃপক্ষ তাদের শুভেচ্ছাদূত করেছে মেসিকে। বিজ্ঞাপনে মেসিকে দেখা যাচ্ছে সৌদি আতিথেয়তার স্বাদ নিচ্ছেন, মরুভূমিতে ‘ডিউন বাগি’ চালাচ্ছেন। সেই মেসিদের দলকে হারিয়েই যেন নিজেদের ফুটবলের নতুন বিজ্ঞাপন প্রচার করল সৌদি আরব। জানিয়ে দিল, আতিথেয়তা দেশে। মাঠের ভেতর লড়াই হবে সমানে সমানে।