কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বকাপে উদীয়মান সেরার দৌড়ে জামাল মুসিয়ালাকে এগিয়ে রেখেছে ফুটবল বিষয়ক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমগুলো। ১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডারকে নিয়ে জার্মানিও দেখছে অনেক বড় স্বপ্ন। ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর বিশ্ব ফুটবল তাকে চিনেছিল। যদিও সেদিনের আগে বায়ার্নের মূল দলের হয়ে বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
পাক্কা জহুরি যেমন আসল হীরা চিনতে ভুল করেন না, তৎকালিন বায়ার্ন কোচ ফ্লিকও ঠিক তা–ই। অনেক প্রতিভার ভিড় থেকে তিনি মুসিয়ালাকে বের করে এনেছেন। তারুণ্যেই নিজের সামর্থ্য আর দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে সবাইকে এতটাই বিমোহিত করেছেন যে জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলো তাকে পেতে উতলা হয়ে পড়ে।
মায়ের দেশ জার্মানিতে জন্ম হলেও বাবা নাইজেরিয়ান। বেড়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডে। লন্ডনের ক্লাব চেলসির একাডেমিতে ছিলেন আট বছর। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ইংল্যান্ড-জার্মানি দুই দলের হয়েই খেলেছেন। চাইলে খেলতে পারতেন বাবার দেশ নাইজেরিয়ার হয়েও। সে পথে না হেঁটে অবশ্য ভালোই করেছেন। সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেললে কি আর কাতারে যেতে পারতেন?
নাইজেরিয়া যে এবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি! অনেক ভেবেচিন্তে মুসিয়ালা গত বছর জন্মভূমি জার্মানিকেই শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই মধ্যে ১৭ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন মুসিয়ালা। দোহার খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হতে পারে তার। যাকে জার্মানির আগামী দিনের তারকা মনে করা হচ্ছে, তাঁর দিকে তো তাই আজ আলাদা করে চোখ রাখতেই হবে।
জোয়াখিম লো দায়িত্ব ছাড়ার পর বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক কোচ হ্যান্সি ফ্লিকই এখন জার্মানির প্রধান কোচ। জাতীয় দলেও চেনা মানুষকে গুরুর ভূমিকায় পাওয়ায় নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার কিছু নেই মুসিয়ালার। ফ্লিকও তার কাছ থেকে বায়ার্নের মতোই পরিপূর্ণ সেবা চাইতে পারেন। তরুণ শিষ্যকে ব্যবহার করতে পারেন ‘লুকানো তাস’ হিসেবেও।
এত অল্প বয়সেই মুসিয়ালাকে সুযোগ দেওয়া নিয়ে ফ্লিক বলেছেন, ‘ওর চোখ দুটো দেখলে মনে হয়, শিকার ধরতে নামছে। কখন মাঠের কোন পজিশনে থাকতে হবে, সেই বোধশক্তি দারুণ। বিশেষ করে উইংয়ে বলের ওপর ওর নিয়ন্ত্রণ খুব ভালো।’
মাঠে ভয়ংকর হয়ে উঠলেও শারীরিক গড়ন ও হাবভাবে একদমই ‘নিষ্পাপ শিশু’ মুসিয়ালা। হাবাগোবা চালচলনের কারণে সতীর্থরা তার নাম দিয়েছেন ‘বাম্বি’। আর জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস তো তাকে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছেন।
ক্লাব ফুটবলে সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই এসেছেন। এবার বিশ্বমঞ্চে নিজের জাত চেনানোর পালা। মুসিয়ালা কি পারবেন এত সুখ্যাতির প্রতিদান দিতে?