যে কারণে মুখে হাত দিয়ে ছবি তুলেছেন জার্মান খেলোয়াড়রা

বুধবার জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর আগে জার্মানির খেলোয়াড়দের মুখে হাতচাপা দিয়ে তোলা ছবি নিয়ে চলছে আলোচনা। এ ছাড়া তারা ওয়ার্ম আপ টপস এবং বুটে রংধনু স্ট্রাইপ পরিধান করে। 

জাপানের বিরুদ্ধে গ্রুপ ‘ই’ এর ওই ম্যাচে অবশ্য জর্মানি হেরে যায়। 

জানা যায়, ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পরে কাতার বিশ্বকাপে খেলার পরিকল্পনা করেছিল ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। তবে ফিফার হুঁশিয়ারির পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয় দেশগুলোকে। এর প্রতিবাদ জানাতে জার্মানরা মুখে হাত চাপা দিয়ে ছবি তোলেন। জাপান ম্যাচের আগে ফটোসেশনে নিজেদের মুখ ঢেকে রাখেন তারা। 

গত সোমবার (২১ নভেম্বর) ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পরে খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয় ইউরোপের দেশগুলোকে। 
ফিফা জানায়, এই আর্মব্যান্ড পরলে ‘সর্বনিম্ন শাস্তি’ স্বরূপ খেলোয়াড়দের হলুদ কার্ড দেখানো হবে। 

জার্মান অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যারের আর্মব্যান্ডটি ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। তবে দর্শক সারিতে উপস্থিত জার্মান মন্ত্রী ন্যান্সি ফেজারকে ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে।

ফটোশ্যুটে মুখ ঢেকে রাখার ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করে টুইট করে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। 

তারা বলেছে, এটি কোনো রাজনৈতিক বিবৃতি নয়। কারণ, মানবাধিকার নিয়ে দর কষাকষি চলে না। আর্মব্যান্ড পরতে দেয়া হয়নি। তাই একটি বার্তা দেয়া জরুরি ছিল আমাদের জন্য। আমরা এটাই বলতে চেয়েছি যে, আর্মব্যান্ড পরতে না দেয়াটা আমাদের কাছে কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করার মতোই গুরুতর বিষয়। আমরা আমাদের অবস্থানে শক্তভাবেই আছি।

কাতারের আইন অনুযায়ী, সমকামী প্রেম অপরাধ। কাতারে সমকামীদের প্রবেশেও আছে বিধিনিষেধ। বিশ্বকাপের আগে বেশ কয়েকটি সমকামী অধিকার রক্ষা সংস্থা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। সেই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও ওয়েলস। এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তারা একটি বিশেষ আর্মব্যান্ড তৈরি করেছে। যার নাম ‘ওয়ান লাভ’।

দেশগুলোর অধিনায়কেরা ঘোষণা দিয়েছেন, বিশ্বকাপের ম্যাচে তারা এই আর্মব্যান্ড পরে নামবেন। এদিকে ফিফা জানিয়েছে, যে দেশে বিশ্বকাপ হচ্ছে সেই দেশের আইন, সংস্কৃতি মেনে চলতে হবে।