ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্ত বিবাদ দীর্ঘদিনের। কাশ্মীরের একটা অংশ নিয়েও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ঘোরতর বিবাদ আছে। নেপালের সঙ্গেও সীমান্ত বিতর্ক মাঝেমধ্যেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আবার ছিটমহল নিয়ে বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে যে বিতর্ক ছিল, তা এখন মোটামুটি মীমাংসা হয়ে গেলেও দুই দেশের সীমান্তে হত্যার কারণে উত্তেজনা কম নেই। কিন্তু এবার সীমানা বিবাদ ভারতের অভ্যন্তরেই। দেশটির এক রাজ্যের সঙ্গে অন্য রাজ্যের সীমান্ত বিবাদে গত ৪২ বছরে প্রাণ গেছে দেড়শোরও বেশি মানুষের। আহত হয়েছেন সাড়ে তিনশোরও বেশি মানুষ। আর ভিটে হারা হয়েছেন ৬৫ হাজার মানুষ।
ভারতের রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপের সংকলিত তথ্য বলছে, এই সীমান্ত বিবাদগুলো উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য আসামের সঙ্গে তাদেরই প্রতিবেশী মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড আর অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে। নিহতের তালিকায় গত মঙ্গলবার যুক্ত হয়েছে আরও ছয়টি নাম। মেঘালয়ের মুখরায় আসাম পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন ছয়জন। ঘটনার পরে অপসারিত আসামের পশ্চিম কার্বি আংলঙ জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ইমদাদ আলি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছিলেন, আসামের অন্তর্ভুক্ত বনাঞ্চল থেকে কাঠ পাচারের করা হচ্ছে এই সন্দেহে একটি ট্রাককে বনরক্ষীরা আটক করে। ধরা হয় চালক ও খালাসিকে। তারপরে বড় সংখ্যায় মেঘালয়ের বাসিন্দারা এসে আসাম পুলিশের কাছ থেকে আটকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য হামলা চালায়, তখনই গুলি চালায় পুলিশ। আর মেঘালয় বলছে তাদের রাজ্যের অন্তত পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে এসে ওয়েস্ট জয়ন্তিয়া হিলস জেলার মুখরায় গুলি চালিয়েছে আসাম পুলিশ।
অথচ এক সময়ে মেঘালয় ছিল আসামেরই অংশ, আর শিলং শহর ছিল অবিভক্ত আসামের রাজধানী। গত বুধবার সেই শিলং শহরেই আসামের বিরুদ্ধে কালো পতাকা দেখানো হচ্ছে।
১৯৭২ সালে আসাম পুনর্গঠন আইন অনুযায়ী মূল রাজ্যটি ভেঙে তৈরি হয় মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড আর অরুণাচল প্রদেশ। সেই সময় থেকেই শুরু মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম আর অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে আসামের সীমান্ত বিবাদ। সীমান্ত বিবাদ মিটিয়ে ফেলতে একাধিক কমিটি হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়েছে, এসেছে বহু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি। দুই পক্ষই মেনে নেবে, এমন সমাধান আজো রয়ে গেছে অধরা। আসাম আর মেঘালয় সরকারও কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গড়েছিল। তারা ঠিক করেছিল যে ১২টি অঞ্চল নিয়ে বিরোধ, তার মধ্যে ৬টি অঞ্চলের বিষয়গুলো সমাধান করে ফেলবে তারা। সেই মর্মে এ বছরেরই গোড়ার দিকে চুক্তিও হয়েছিল। কিন্তু তার বাস্তবায়ন আর হয়নি।