ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ও ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়া জেলার আর কোনো সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে যন্ত্র চালু নেই। এর মধ্যে সোনাগাজী, ফুলগাজী, পরশুরাম ও দাগনভূঞা উপজেলায় কোটি টাকার এক্স-রে যন্ত্রগুলো বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। এ ছাড়া ফেনীর মহিপালে অবস্থিত ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টার ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালেও এক্স-রে করা হয় না ১৫ বছর ধরে। দক্ষ লোকবলের অভাবে সেগুলো স্থাপন (ইনস্টল) এবং চালু করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। এতে ওই চার উপজেলাবাসী সরকারিভাবে এক্স-রে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি এক্স-রে যন্ত্র থাকলেও ১০ বছর ধরে সেবা পাচ্ছে না মানুষ। এ উপজেলায় ২০১৬ সালে ৩০০ এমএ ক্ষমতাস¤পন্ন একটি ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র দেওয়া হয়। সেটি স্থাপন করা হলেও চালানোর জন্য দক্ষ লোক নেই। এরপর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৫০০ এমএ ক্ষমতাস¤পন্ন সিমেন্স কো¤পানির আরেকটি ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র সেখানে পাঠানো হয়, তা এখনো স্থাপন করা হয়নি।
একই অবস্থা পরশুরাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরও। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক্স-রে যন্ত্র নষ্ট হয় ২০১৬ সালে। সেটি মেরামত না করেই ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৫০০ এমএ ক্ষমতাস¤পন্ন একটি ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র দেওয়া হয়। কিন্তু যন্ত্রটি স্থাপন করার মতো দক্ষ লোক না থাকায় সেটি বাক্সবন্দি পড়ে আছে।
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৩ সাল থেকে এক্স-রে করা হয় না। ২০২১ সালের ২ মার্চ ৫০০ এমএ ক্ষমতাস¤পন্ন ফিলিপস কো¤পানির একটি ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র দেওয়া হয়। কিন্তু স্থাপন না হওয়ায় তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ২০১৮ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাগাজী উপজেলায় নতুন ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র বরাদ্দ দেয়। তবে তা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি আজও।
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব টেকনোলজিস্ট মাহবুব আলম বলেন, ২০০৭ সালে একজন ও ২০১৩ সালে আরেকজন এক্স-রে টেকনোলজিস্ট হাসপাতালে যোগ দেন। কিন্তু এক্স-রে যন্ত্র বিকল হওয়ায় দু-এক মাস পর তারা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান।
ফেনীর সিভিল সার্জন রফিক-উস ছালেহীন বলেন, জনবল নিয়োগ ছাড়া এক্স-রে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। নিয়োগের ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন।