চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের গুপ্তছড়া এলাকায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেটি নির্মাণ, খাল ড্রেজিং ও সংযোগ সড়কের তৈরির কাজ করছে জেলা পরিষদ। কিন্তু ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সরকারি খাল থেকে উত্তোলিত মাটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন মগধরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তিনি এসব মাটি নিজের ভাটায় নিয়ে ব্যবহার করছেন ইট বানানোর কাজে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসএমসি ডকইয়ার্ড জেটি নির্মাণ, ড্রেজিং ও সংযোগ সড়ক তৈরির কাজ করছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ করছেন মগধরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন।
গত শুক্রবার বেলা ১১টায় গুপ্তছড়া ঘাটের উত্তরে নির্মাণাধীন জেটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্তূপ করে রাখা হয়েছে খাল থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলিত মাটি। এক্সেভেটরের সাহায্যে সে মাটি তুলে দেওয়া হচ্ছে ট্রাকে। ১০-১২টি ট্রাক পালাক্রমে মাটি নিয়ে ফেলছে ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চেয়ারম্যানের ইটভাটায়। ইতিমধ্যে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলিত মাটির এক তৃতীয়াংশ সরানোর কাজ শেষ।
মাটি সরানোর কাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক ও ট্রাক ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তিন দিন ধরে ট্রাকে করে রাতদিন মাটি সরানোর কাজ চলছে। মাটিগুলো নেওয়া হচ্ছে চেয়ারম্যানের ইটভাটায়।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এগিয়ে আসেন মাটি সরানোর কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. ইদ্রিস। তিনি এসে বলেন, এখানে ছবি তোলা ও ভিডিও করা নিষেধ। এগুলো খাল খননের বরাদ্দের মাটি। এগুলো বিক্রির অর্ডার নেই। তবে, চেয়ারম্যান যেহেতু খাল খনন করেছেন, তিনি নিজের কাজে মাটি ব্যবহার করতে পারবেন।
মগধরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে কল দিলে তিনি বলেন, মাটিতো ঠিকাদারের। এ মাটি কী করবে তা ঠিকাদারই বুঝবে।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট খীসা বলেন, বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব জেলা পরিষদের।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল বলেন, বিষয়টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসন দেখাশোনা করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর শুক্রবার বিকেলেই ঘটনাস্থলে যাই। ট্রাক ড্রাইভাররা মাটি ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। আমি যাওয়ার পর তারা ইটভাটায় মাটি নেওয়া বন্ধ করে সংযোগ সড়কে মাটি ফেলা শুরু করে।