অবেদনবিদ নেই, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার বন্ধ ৭ মাস

নারয়ণগঞ্জ শহরের একমাত্র সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব বন্ধ রয়েছে ৭ মাস ধরে। অবেদনবিদ (অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট) না থাকায় এখানে সিজারিয়ান অপারেশন হচ্ছে না বলে স্বীকার করেছেন সিভিল সার্জন। ফলে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সেবা নিতে আসা প্রসূতি মায়েরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সিজার করাচ্ছেন। অপারেশন ও পরবর্তী চিকিৎসাসেবা নিতে আর্থিকভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্নবিত্তদের।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০টি সিজারিয়ান অপারেশন হতো। বর্তমানে চিকিৎসা সামগ্রী থাকলেও সাত মাসের অধিক সময় ধরে অবেদনবিদ না থাকায় অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের অবেদনবিদ ডা. সেলিমা বেগম অবসরগ্রহণ করায় গত এপ্রিল থেকে হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। কিন্তু রোগীর কমতি নেই। দৈনিক বহির্বিভাগে গড়ে ২৫ জন গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। প্রসবের সময় সিজারিয়ান অপারেশনের রোগী ও স্বজনরা বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটেন।

ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, শহরে গড়ে ওঠা বৈধ-অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিকগুলাকে সুবিধা দিতেই দীর্ঘ ৭ মাস ধরে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা প্রসূতি মায়েরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ওয়ার্ড ও অপারেশন কক্ষ তালাবদ্ধ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোগী দেখা হলেও দুপুরের পর জনশূন্য হয়ে পড়ে হাসপাতালটি। দুই-একজন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ছাড়া আর কারও দেখাই মেলে না। হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের সব ধরনের সেবা চালু থাকলেও দুটি ওয়ার্ডের একটিতেও রোগী নেই।

হাসপাতালে আসা গর্ভবতী নারী রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমি এখানে নিয়মিত চেকআপ করাই। কিন্তু শুনেছি এখানে সিজার হয় না। সিজারের প্রয়োজন হলে ডাক্তার অন্য কোথাও সিজার করাবে বলছে। এর আগে এখানে আমার আত্মীয়রাও সিজার করিয়েছে। কম খরচে চিকিৎসা হয় শুনেই এখানে এসেছিলাম।’

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ফাতেমা শিরিন বলেন, ‘হাসপাতালে আগে সিজারিয়ান অপারেশনের পর ওয়ার্ড ভর্তি রোগী চিকিৎসাধীন থাকত। কিন্তু সিজার বন্ধ থাকায় ওয়ার্ডগুলো খালি। কিন্তু নরমাল ডেলিভারি নিয়মিত হচ্ছে। সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ হওয়ার পর প্রসব অর্ধেক কমেছে।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বলেন, ‘অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সিজারিয়ান অপারেশন হচ্ছে না। কবে নাগাদ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।’