যে কোনো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচটা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। বিশেষ করে যারা ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্টে যায় তাদের জয় তুলে নেওয়াটা হয় জরুরি। তাই বলে প্রথম ম্যাচে হারলেই যে সব শেষ তা তো নয়। এবারের বিশ্বকাপে জার্মানিকে আমি ফেভারিটের তালিকায় রাখিনি ঠিক। তবে ওরা বড় মঞ্চের দল। যে কোনো কিছু করার ক্ষমতা চারবারের চ্যাম্পিয়নদের রয়েছে। এশিয়ার দেশ জাপানের বিপক্ষে তাদের হেরে যাওয়াটা তাই সবার মতোই আমাকে বেশ অবাক করেছে। এখন তো কঠিন একটা সময় অপেক্ষা করছে জার্মান ফুটবলের সামনে। দ্বিতীয়বারের মতো তাদের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের সম্ভাবনা জেগেছে। স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে আজ স্পেনের বিপক্ষে জিততে হবেই দলটিকে। আমি বলব, কাজটা খুব কঠিনই হতে যাচ্ছে।
জিততে হলে জার্মানিকে অসাধারণ পারফরম্যান্স মেলে ধরতে হবে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানি ২-১ গোলে হেরেছে জাপানের কাছে। অন্যদিকে স্পেন ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে কোস্টারিকাকে। অমন একটা পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই স্পেন বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে। হয়তো ম্যাচটা তারা জিতেও যাবে। যদিও ফুটবলে যে কোনো কিছুই হতে পারে। এভাবে তাই বলা ঠিক না। যদি অন্যভাবে বলি, জার্মানির জন্য ম্যাচ বের করা কঠিন হবে।
ফুটবলে ম্যাচ জিততে হলে কিছুটা সময় বল ডমিনেট করতে হয়। এখানে স্পেনের সঙ্গে পেরে ওঠা চ্যালেঞ্জ হবে জার্মানির জন্য। ওদের কাছ থেকে বল নিয়ে রাখা মুশকিল। কারণ ওরা প্রেসিং করে বল উইন করে নেয়। যদি জার্মানি জিততে চায় তাহলে সেট পিস ধস্পেনের রক্ষণে। আমার মনে হয় জার্মানি এটা নিয়ে বেশি কাজ করবে। ওপেন প্লেস থেকে গোল পাওয়া মুশকিল হবে তাদের জন্য।
স্পেন অপরিবর্তিত দল নিয়েই খেলবে হয়তো। জার্মানিও আগের ম্যাচের দলটাই ট্রাই করতে পারে। স্পেনের ফর্মেশন হতে পারে ৪-৩-৩। জার্মানির ফর্মেশনও আগের ম্যাচের মতো ৪-২-৩-১ হতে পারে। জাপানের বিপক্ষে জার্মানিই প্রথমে লিড নিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল হজম করে হান্সি ফ্লিকের দল। ওই ম্যাচে প্রচুর সুযোগ তৈরি করেছে জার্মানরা। কিন্তু সেগুলো ফিনিশ করতে পারেনি। স্পেনের বিপক্ষে অবশ্য অত বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারার কথা নয়। তবে সুযোগ পেলে সেগুলো কাজে লাগাতেই হবে।