টেকনাফে বিএনপি নেতার দুই হাত কেটে উল্লাস!

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা বিএনপির ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প বিষয়ক সহসম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সিদ্দিক আহম্মদের (৫৫) দুই হাত কবজির ওপর থেকে কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তিনি আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি এনামুল হক ওরফে এনামের ভাই হত্যা মামলার আসামি। বদলা নিতেই এনাম ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে টেকনাফের সদর ইউনিয়নে নাজিরপাড়া এলাকায় সিদ্দিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এনামুল হক এনাম। তিনি আলোচিত ইয়াবা মামলায় সদ্য সাজাপ্রাপ্ত। সাজার মেয়াদ কারা হাজতে থাকা অবস্থায় শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

এনাম মেম্বার উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

আহত সিদ্দিক একই এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে। ছয় বছর ধরে তিনি সপরিবারে কক্সবাজার শহরে বসবাস করছেন।

তার পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, সিদ্দিক টেকনাফের সাবরাংয়ে তার অসুস্থ মেয়েকে দেখতে যান। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে নাজিরপাড়া মাদ্রাসার সামনে পাকা রাস্তার ওপর ব্যারিকেড দিয়ে এনামের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল তাকে আটক করে। পরে এনাম মেম্বারের আস্তানায় নিয়ে কবজির ওপর থেকে তার দুই হাত কেটে ফেলে। এরপর কাটা হাত নিয়ে মাঠে উল্লাস করে ইয়াবা কারবারিরা। পরে গ্রামবাসী এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় সিদ্দিককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সূত্রগুলো জানায়, ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এনাম মেম্বারের বড় ভাই আজিজুল হক মার্কিনকে বাড়িতে ঢুকে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় সিদ্দিককে প্রধান ও তার আত্মীয়স্বজনদের আসামি করে মামলা করে আজিজুল হকের পরিবার। ওই মামলার পর থেকে সিদ্দিক এলাকা ছেড়ে কক্সবাজার শহরে চলে আসেন।

সিদ্দিকের আত্মীয় ও একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য হাম জালাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলতি বছরেই আজিজুল হক হত্যা মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি এনাম মেম্বার ওই হত্যাকা-কে পুঁজি করে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী ‘বাহিনী’ গঠন করেন। সেই ‘বাহিনী’কে দিয়ে এলাকার নিরীহ লোকজনের সম্পত্তি দখল, প্রতিবাদী লোকজনকে হত্যাসহ নানা অপকর্ম করছেন। তার দাবি, কিছুদিন আগে এনাম তার আপনার চাচাতো ভাই ভুট্টোকে কৌশলে হত্যা করিয়েছেন। তারও আগে সিদ্দিকের পরিবারের সবকিছু দখল করে নিয়েছে এনামের লোকজন।

হাম জালাল অভিযোগ করেন, সিদ্দিক তার অসুস্থ মেয়েকে দেখে কক্সবাজারে ফেরার পথে ইউপি সদস্য এনামুল ও তার ভাই চাঁদ, সাবসহ একদল ইয়াবা কারবারি দা, লম্বা কিরিচসহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সিদ্দিককে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় এবং দুই হাত কবজির ওপর থেকে কেটে ফেলে।

তবে ইউপি সদস্য এনামুল হক এনাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিদ্দিক, হাম জালালের বিরুদ্ধে তার ভাই আজিজুল হক হত্যা মামলা আদালতে বিচারধীন। মামলার রায় ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই তাকে ফাঁসানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে চক্রটি। বর্তমানে তার কোনো ভাই কিংবা আত্মীয় টেকনাফে থাকেন না।

তিনি দাবি করেন, সিদ্দিক একজন ইয়াবা কারবারি। তার সঙ্গে অনেকের দ্বন্দ্ব আছে। খোরশেদ, আবু ছৈয়দসহ আরও কয়েকজন মিলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবদুল হালিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এক ব্যক্তির দুই হাত কেটে নিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আহতকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা হামলা করেছে, কী কারণে হামলা করেছে, তা জানার পাশাপাশি হামলাকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।’