আরও একবার লিওনেল মেসির জাদু দেখলাম আমরা। দেখলাম তরুণ কোচ লিওনেল স্কালোনির বুদ্ধিমত্তা। দুই মিলে মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনা শুধু জয়ই পেল না, ফিরল কক্ষপথে। যেখান থেকে দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের কেবল এগিয়ে যাওয়ার পালা।
সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অঘটনের শিকার হওয়ায় আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে যে মরিয়া থাকবে সেটা তো জানাই ছিল। মেক্সিকো তাদের প্রথম ম্যাচে পোল্যান্ডকে রুখে দিয়েছিল। সেদিন যে ফুটবল তারা খেলেছিল তাতে দারুণ একটা ম্যাচের আভাসই মিলেছিল। আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আমার আগের কলামে তাই লিখেছিলাম, ম্যাচটা টুর্নামেন্টের সেরা হতে যাচ্ছে। তবে মেক্সিকো এদিন ডিপ ডিফেন্ডিং করে খেলাটা বোরিং করে ফেলেছিল।
৫-৩-২ ফর্মেশনে পাল্টা আক্রমণ-নির্ভর খেলেছে মেক্সিকো। রক্ষণ ছিল জমাট। মেসি ও ডি মারিয়াকে তো জায়গাই দেয়নি। তবে ম্যাচের ভেতরে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির অনেক ট্যাকটিক্যাল অ্যাপ্রোচ ছিল। যা দুর্দান্ত বলতে হবে। স্কালোনি তরুণ কোচ, তবে আমি বলব খুব পরিণত কোচ। এ ম্যাচে তিনি প্রমাণ করেছেন সেটাই।
এদিন শুরুর একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছিলেন স্কালোনি। সবগুলোই ইতিবাচক পরিবর্তন ছিল। একটা সময় পর্যন্ত গুইদো রদ্রিগেজ খেলেছে। হোল্ডিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় ছিল ও, তবে আক্রমণের সময় দেখা যাচ্ছিল মাঝখানে চলে যাচ্ছে। লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও নিকোলাস ওতামেন্দি লেফট ও রাইট ব্যাকের ভূমিকা নিচ্ছিল। রাইট ব্যাক গঞ্জালো মন্টিয়েল ও লেফট ব্যাক মার্কোস আকুয়েনা চলে যাচ্ছিল উইঙ্গারের ভূমিকায়। পরে যখন এটা কাজে আসছিল না তখনই দ্বিতীয়ার্ধে গুইদো রদ্রিগেজকে উঠিয়ে নামানো হলো এনসো ফের্নান্দেসকে, যিনি দ্বিতীয় গোলদাতা। এনসোকে নামানোর পর স্কালোনি চলে যান ফোর ব্যাক ফর্মেশনে। যখন গোল আসছিল না স্কালোনি আসলে পাগলের মতো ট্রাই করছিলেন। অনেক খেলোয়াড় বদল করছিলেন।
আমার মনে হয় মেসির যে গোল, ওই গোল পাওয়াটাই তাদের ‘টার্নিং পয়েন্ট অব টুর্নামেন্ট’। এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়ায় আমার মনে হয়ে গ্রুপে সেরাও হতে পারে আর্জেন্টিনা। মেসি দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর এনসো ফের্নান্দেস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তার গোলটিও ছিল দেখার মতো। সৌদি আরবের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও মাঠে নেমে প্রভাব রেখেছিলেন তিনি। তবে সবকিছুর পরও বলব, মেসির নৈপুণ্য ছাড়া মনে হয় না গোলটা আসত। মেসি এমন একটা খেলোয়াড়, মাঝে মধ্যে সে দাঁড়িয়ে যায়। মেক্সিকের বিপক্ষে যেমন ও খুব বেশি মুভমেন্ট করছিল না। তাড়াহুড়োর কিছু ছিল না ওর মধ্যে। যেটা গোল হলো, সেটায়ও এমনই দেখা গেছে। ডি মারিয়া বলটা বাড়াল। মেসি প্রথম টাচেই বল সাজিয়েছে এবং অনেক দূর থেকে অসাধারণভাবে বলটা জালে জড়িয়েছে। ওই গোলটা আসলে খুব দরকার ছিল ওদের। এরপরই ওরা ফাইভ ব্যাকে চলে যায়। ডি মারিয়ার জায়গায় নামিয়ে দেয় ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে।
সৌদি আবরের সঙ্গে যে খেলা দেখেছি, আমার মনে হয় আর্জেন্টিনার জন্য ফাইভ ব্যাক খেলা বুদ্ধিমানের কাজ করে। রক্ষণ সলিড থাকলে মেসি বা ডি মারিয়ার নৈপুণ্যে অবশ্যই কিছু একটা বেরিয়ে আসবে।