চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৪১ ঘণ্টা পর জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্য বন্দরগুলোর কার্যক্রমও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সরকার, মালিক ও শ্রমিক নেতাদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটা থেকে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ লাইটার ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. নবী আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, ১০ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিকেলে ঢাকায় শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে লাইটারেজ জাহাজ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি আরও জানান, সিদ্ধান্ত জানানোর পর সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটা থেকে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে কর্ণফুলীর ঘাটগুলো মঙ্গলবার সকাল থেকে কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
নৌযান শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ দশ দফা দাবিতে শনিবার মধ্যরাত থেকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করে নৌযান শ্রমিকরা। এর ফলে নৌপথে পণ্য পরিবহন ও বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য স্থানে নৌপথে পণ্য পরিবহনও বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রায় ৪১ ঘণ্টা পর অচলাবস্থার অবসান হয়েছে।
এদিকে নৌযান শ্রমিকদের গত দুদিনের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন সোমবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে কোনো জাহাজ থেকে মালামাল লোড আনলোড হয়নি। এ বন্দরের পন্টুন থেকে নৌযান শ্রমিকরা জাহাজগুলো সরিয়ে নিয়ে করতোয়া ও বড়াল নদীর মোহনায় নোঙর করে রাখায় বাঘাবাড়ী নৌবন্দর এদিন জাহাজশূন্য এবং অচল হয়ে পড়ে। এদিন কোনো কাজকর্ম না থাকায় বন্দরের প্রায় ৪০০ শ্রমিক দিনভর বেকার সময় কাটান। পুরো বাঘাবাড়ী নৌবন্দর এলাকায় তেমন কোনো লোকজনের কোলাহল ছিল না। অনেকটা ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছিল। এ বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকগুলো এক কোণে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বন্দর চত্বর ফাঁকা ময়দানে পরিণত হয়েছে। পুরো বন্দর এলাকায় শুনশান অবস্থা বিরাজ করছে। কয়লা, পাথর ও রাসায়নিক সার বন্দর চত্বরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। তেলবাহী ট্যাংকলরিগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বন্দর চত্বর গরু-ছাগলের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ঘুরে এ অচলাবস্থা দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর এলাকার হোটেল মালিক সোন্তেষ আলী বলেন, প্রতিদিন আমার হোটেলে প্রায় দেড়শ শ্রমিক ভাত খান। কর্মবিরতির কারণে বন্দরে কোনো লোকজন না আসায় আজ বেচাকেনা হয়নি। সারা দিনে ১ হাজার টাকাও উপার্জন হয়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের পথে বসে যেতে হবে।
এ বিষয়ে লেবার সরদার আব্দুল হক বলেন, গত ২দিন ধরে কাজকর্ম না থাকায় এ বন্দরে কর্মরত প্রায় ৪০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের ঘরে এদিন কোনো চুলা জ্বলেনি। ফলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর অবস্থায় পড়েছেন।