চীন ও রাশিয়ার আটটি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে ঢুকে পড়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে কোরীয় উপদ্বীপে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দুটি চীনা ও ছয়টি রুশ যুদ্ধবিমান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে ঢুকে পড়ার পর তারাও তাদের যুদ্ধবিমানগুলোকে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত রেখেছে। এতে জাপানেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খবর রয়টার্স।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানায়, বুধবার ভোরের আগে স্থানীয় সময় আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে চীনের দুটি এইচ-৬ বোমারু বিমান দক্ষিণ এবং দক্ষিণপূর্ব উপকূলের কাছে কোরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে (কাদিজ) একাধিকবার প্রবেশ ও পরে বের হয়ে যায়।
কয়েকঘণ্টা পর বিমানদুটি আরও ৬টি রুশ যুদ্ধবিমানকে সঙ্গে নিয়ে জাপান সাগর থেকে ফের কাদিজে ঢুকে পড়ে এবং ১৮ মিনিট পর ওই এলাকা ছাড়ে।
রুশ বিমানগুলোর মধ্যে টিইউ-৯৫ বোমারু বিমান ও এসইউ-৩৫ জঙ্গিবিমান ছিল বলে জানিয়েছে জেসিএস। জাপান সাগর দক্ষিণ কোরীয়দের কাছে পূর্ব সাগর হিসেবে পরিচিত।
বিবৃতিতে জেসিএস বলেছে, ‘কাদিজে রুশ ও চীনা উড়োজাহাজের প্রবেশের আগেই সম্ভাব্য আকস্মিক কোনো ঘটনার প্রস্তুতিতে কৌশলগত ব্যবস্থা কার্যকরে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানকে প্রস্তুত থাকতে বলে আমাদের সামরিক বাহিনী।’
তবে রুশ ও চীনা যুদ্ধবিমান দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে ঢুকলেও কোনো বিমানই দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমা লংঘন করেনি। কোনো দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চল হচ্ছে সেই এলাকা যেখানে দেশটি বিদেশি উড়োজাহাজকে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে বলতে পারে। আর দেশটির ভূখণ্ড ও জলসীমার উপরটুকু তার আকাশসীমা।
আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চল কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক কোনো বিধিবিধান নেই। রাশিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেয়নি। চীনের মতে, ওই অঞ্চল নির্দিষ্ট কোনো দেশের আকাশসীমায় পড়েনি, সুতরাং সব দেশই সেখানে অবাধে বিমান চালাতে পারে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চীনা বোমারু বিমানগুলো পূর্ব চীন সাগর থেকে উড়ে এসে জাপান সাগরে দুটি রুশ ড্রোনের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার পর তারাও তাদের যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত রেখেছিল।
ওই অঞ্চলে রাশিয়া-চীনের যুদ্ধবিমানগুলো নিয়মিত যৌথ মহড়া চালাবে বলে চীন ও রাশিয়া আগেই জানিয়ে রেখেছিল। আগস্টেও দক্ষিণ কোরিয়া কাদিজে রুশ যুদ্ধবিমান প্রবেশের খবর দিয়েছিল; তার তিন মাস আগে মে-তেও রুশ ও চীনা বিমান দক্ষিণের সীমান্তে হানা দিয়েছিল।
ইয়ুন সুক-ইয়ল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটিই ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে চীনা-রুশ বিমান ‘অনুপ্রবেশের’ প্রথম ঘটনা। ২০১৯ সালে চীনের সঙ্গে এক যৌথ মহড়ার সময় কাদিজে ঢুকে পড়া একাধিক রুশ সামরিক উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমানগুলো শতাধিক সতর্কতামূলক গুলিও ছুড়েছিল।
সম্প্রতি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল কোরীয় উপদ্বীপে। তার মধ্যেই চীন-রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের এই উস্কানিমূলক আচরণের ঘটনা ঘটল।