গাজীপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

গাজীপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ মমতাজ বেগম এ রায় প্রদান করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে শরিফুল (৪৫), তিনি নীলফামারী সদর থানার রামকলা এলাকার নূর আলমের ছেলে।

গাজীপুর আদালতের ভারপ্রাপ্ত পিপি মকবুল হোসেন কাজল জানান, রংপুরের পীরগাছা থানার সৈয়দপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে মোছা. মোহছেনা (৩৫) গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার সারদাগঞ্জ সুলতান মার্কেট হাজী রুহুল আমীনের বাসায় ভাড়া থেকে জিএমএস গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন। একই গার্মেন্টসের ডেইলি লেবার মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে শরিফুলও চাকরির সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়।

পরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর স্ত্রী মোহছেনা জানাতে পারেন স্বামী শরিফুল আগে বিয়ে করেছেন এবং তার চার সন্তান রয়েছে।

এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকতো। একপর্যায়ে মোহছেনা তার স্বামী শরিফুলকে তালাক দেন। তালাক দেওয়ার পর থেকে শরিফুল বিভিন্ন সময়ে মেহেছেনাকে খুন-জখমের ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর সকালে মোহছেনার ঘর ভেতর থেকে লাগানো ছিল এবং প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করলেও তিনি দরজা খুলছিলেন না। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানার পুলিশ এসে দরজা ভাঙে ভেতরে প্রবেশকালে ভেতর থেকে তালাক দেওয়া স্বামী শরিফুল বের হয়ে আসে।

তখন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘরে গিয়ে মোহছেনার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে কাশিমপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ে করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই থানার এসআই তাপস কুমার ওঝা ২০২১ সালের ১০ মার্চ আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে শরিফুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত দীর্ঘ শুনানির পর ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালত বৃহস্পতিবার মামলার একমাত্র আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে শরিফুলকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণাকালে আসামি শরিফুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত পিপি মকবুল হোসেন কাজল। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফারহানা খানম।