ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আগামীকাল শনিবার। ছয় বছর পর সার্কিট হাউজ মাঠে হতে যাওয়া সম্মেলন ঘিরে নগরীর প্রতিটি সড়ক তোরণ, ফেস্টুন, পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে।
সম্মেলন সফল করতে জেলা ও মহানগর নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। সম্মেলনে দলটি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটাতে চায়। অতীতের চেয়ে এবারের সম্মেলনটি অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ হওয়ার আশা শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে।
আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের পছন্দের নেতাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ‘দেখতে চেয়ে’ নগরজুড়ে তোরণ, ফেস্টুন ও পোস্টার সাঁটিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকেও ছড়িয়ে পড়ছে কে কাকে সভাপতি-সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান। কর্মী-সমর্থকরা নিজস্ব টাইমলাইনে তুলছেন নেতাদের নিয়ে তোষামোদের ঝড়। সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ছুটছেন ঢাকায়। কারা আসছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে দলটির নেতাকর্মীরা।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী বেশ কয়েকজন নেতা আলোচনায় রয়েছেন।
সভাপতি পদপ্রত্যাশীরা হলেন- বর্তমান সভাপতি জহিরুল হক খোকা, সহ-সভাপতি সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান, ফারুক আহমেদ খান ও জালাল উদ্দিন খান।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা হলেন- মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস, শওকত জাহান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ আলী আকন প্রমুখ।
মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে চেয়ে বেশ কয়েকজন নেতা বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাঁটিয়েছেন। সভাপতি পদপ্রত্যাশীরা হলেন- সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু, বর্তমান সভাপতি এহতেশামুল আলম ও সাদেক খান মিল্কী টজু প্রমুখ।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক গোলাম ফেরদৌস জিলু, যুগ্ম সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হক, রেজাউল হাসান বাবু, মোতাহার হোসেন লিটু প্রমুখ।
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক বলেন, ‘সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নতুন কমিটি কী প্রক্রিয়ায় হবে সেটি নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় কমিটি। আমাদের আশা, সম্মেলনের মাধ্যমে একটি ভালো কমিটি হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, সম্মেলন সফল করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা রাত-দিন কাজ করছেন। নেত্রী যেখানে রাখতে চান আমি সেখানেই থাকব। মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু জানান, বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, অপচেষ্টা মোকাবিলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, নেতৃত্বে ত্যাগীদের দেখতে চান।