লবণের রানীর দ্বীপ

বিশ্বের সেরা রাঁধুনিদের কাছে সমাদৃত বিশেষ এক ধরনের লবণ উৎপাদিত হয় স্পেনের মায়োরকা দ্বীপে। সালিনেরো নামের দক্ষ শ্রমিকরা দ্বীপের নির্দিষ্ট এক জায়গায় হাতে করে ফ্লোর দে সাল নামের সেই লবণ সংগ্রহ করেন। প্রকৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই কাজ কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসছে। লবণটির মানের জন্য পর্যটক এবং দামি রেস্তোরাঁর রাঁধুনিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তারা ফ্লোর দে সালকে বলেন লবণের রানী। 

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মায়োরকা দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে এস ট্রেংকে উৎপাদিত এ লবণ সাদা সোনা হিসেবেও পরিচিত। কোনো ধরনের যান্ত্রিক স্পর্শ ছাড়া হাতেই করা হয় পুরো প্রক্রিয়া।

ইয়োনাটান মায়েস্ত্রো মার্তিনেস নামের এক লবণ শ্রমিক বলেন, সালিনেরো হিসেবে আমি মায়োরকার লবণ খামারে কাজ করি। এই কাজ আমার খুব ভালো লাগে। প্রকৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই কাজ পরিবেশবান্ধব। আমাদের এখানে কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসছে।

মার্তিনেস জানান, লবণ ক্ষেতের পানির ওপরের স্তর সূক্ষ্ম ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের রূপ নেয়। ফুলের পাপড়ির মতো সেই ফ্লোর দে সাল অতি সাবধানে জালের মাধ্যমে আলাদা করা হয়।

গোটা ক্ষেতের সবচেয়ে দামি লবণ হলো ফ্লোর দে সাল। সালিনেরোরা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে হাতে করে সেটি প্রস্তুত করেন এবং সেটি থেকে সব রকম অবাঞ্ছিত অংশ দূর করেন। কোনো বাড়তি পদার্থ ছাড়াই সেই লবণ মোড়কবন্দি করা হয়।

দ্বীপের প্রায় ৩৮০০ হেক্টর জুড়ে বিশাল প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকার মধ্যে লবণের খামার অবস্থিত। আন্দ্রেস মাস ২০১৬ সাল থেকে সালিনেরো হিসেবে কাজ করছেন সেখানে। তিনি বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখতে আমরা অন্য কিছু যোগ করি না, কিছু বাদও দেই না। এটাই মৌলিক বিষয়। আমরা সমুদ্র থেকে পানি এনে ঢালি। সমুদ্রের পানি বাষ্পীভূত হয় এবং লবণ অবশিষ্ট থাকে।

লবণ খামারের মালিক লাউরা কালভো বলেন, এস ট্রেংকের ফ্লোর দে সাল হলো সব লবণের রানী। এটাই মায়োরকার আত্মা এবং রোমান যুগের মতো সাদা সোনা। প্রচলিত সামুদ্রিক লবণের তুলনায় একেবারেই আলাদা। উপকূলের এই প্রাকৃতিক সম্পদের প্রত্যেকটি দানার মধ্যে সমুদ্রের স্বাদ পাওয়া যায়।