ব্রাজিলের ‘পরীক্ষায়’ ক্যামেরুন পাস

দিদিয়ের দেশমের কান্ড দেখে শিক্ষা হয়নি তিতের। ব্রাজিল কোচও একই কাণ্ড করলেন এবং একই পরিণতি ভোগ করলেন। অতিরিক্ত সময়ে অধিনায়ক ভিনসেন্ট আবু বকরের নিখুঁত হেডে হারের লজ্জায় শেষ হয়েছে সেলেসাওদের গ্রুপ পর্ব। তাতে অবশ্য খুব একটা ক্ষতি হয়নি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ‘জি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই তারা গিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। সোমবার তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগালকে হারিয়ে চমক জাগানো দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলকে প্রথম হারানোর পরও অদম্য সিংহদের মেনে নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পরিণতি। ১৯৯০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার পর থেকেই আফ্রিকান দেশটির বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাচ্ছে গ্রুপ পর্বে। স্টেডিয়াম ৯৭৪-এ একই সময়ে ‘জি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে সার্বিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সেরা ষোলোতে ব্রাজিলের সঙ্গী হয়েছে সুইজারল্যান্ড। নকআউটে সুইসদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল।

ব্রাজিলের জন্য এ ম্যাচের গুরুত্ব সেভাবে ছিল না। তবে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দল কাল খেলেছে লুসাইল স্টেডিয়ামের পরিপূর্ণ গ্যালারিতে। ৮৬ হাজার দর্শকের বড় অংশই কাল এসেছিল প্রিয় দলকে জয়ী রূপে দেখতে। অথচ তাদের ফিরতে

হয়েছে হারের হতাশা নিয়ে। ব্রাজিল হেরে বসেছে। তবে যে উদ্দেশ্যে কোচ তিতে দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েছিলেন, সেটা পুরোপুরি সফল। এতে সাইডবেঞ্চাররা যেমন খেলার সুযোগ পেলেন, তেমনই নিয়মিত শুরু করা তারকাদের মিলল নকআউট পর্ব শুরুর আগে যথেষ্ট বিশ্রামের সুযোগ। তবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্ন নিয়ে কাতারে আসা ব্রাজিলের এ ছন্দপতনটা না আবার বড় আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায় শেষ পর্যন্ত।

তিতে কাল তার আক্রমণভাগ সাজিয়েছিলেন তিন তরুণ তারকা অ্যান্তনি, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলিকে দিয়ে। রাইটব্যাক পজিশনে ৩৯ বছর বয়সী এ ম্যাচের অধিনায়ক দানি আলভেজকে জায়গা দিতে মিলিতাও খেলেন সেন্ট্রাল ডিফেন্স পজিশনে। মিলিতাও ছাড়াও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের একাদশে খেলা ফ্রেদ সুযোগ পেয়েছিলেন কাল। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ক্যামেরুন আক্রমণভাগে শক্তি বাড়িয়ে মাঠে নামে। এরিক ম্যাক্সিম এবং ভিনসেন্ট আবু বকরের দায়িত্ব ছিল গোলের। ডান প্রান্তে ব্রায়ার্ন বেউমোকে রাখা হয়েছিল আক্রমণ রচনার জন্য। এ ছাড়া ফ্রাঙ্ক আঙ্গুইসা মাঝমাঠ থেকে খেলার সাজানোর দায়িত্বে ছিলেন। ব্রাজিলের তরুণ তুর্কিদের মুহুর্মুহু আক্রমণ রুখতে গিয়ে সেভাবে নিজেরা গোলের জন্য ঝাঁপাতে পারেনি ক্যামেরুন।

ব্রাজিলকে গোল করতে না দেওয়ার বড় কৃতিত্বটাই পাবেন ক্যামেরুন গোলকিপার ডেভিস এপাসি। অসাধারণ বেশ কিছু সেভে ২৯ বছর বয়সী কিপার দলের দুর্গ সুরক্ষিত রেখেছেন পুরো ম্যাচেই। ১৪ মিনিটে এপাসির কল্যাণে বেঁচে যায় তারা। ফ্রেদের ক্রসে মার্তিনেলির হেড ফিস্ট করে রুখে দেন এপাসি। ২০ মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েছিল ক্যামেরুন। এরিক ম্যাক্সিম তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। তবে শট নেওয়ার আগেই মিলিতাও এসে বল আয়ত্তে নেন। পরের মিনিটে আবু বকরের গোলমুখ থেকে নেওয়া শট রুখে দেন এলিসনের জায়গায় পোস্ট সামলানো এদারসন।

এরপর থেকেই খেলা কিছুটা ঝিমিয়ে গিয়েছিল। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হঠাৎ জেগে উঠে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। যার সবটাই বৃথা হয় এপাসির দৃঢ়তায়। বিরতি থেকে ফিরে দু’দলই আক্রমণে গতি আনে। আক্রমণে এগিয়ে ছিল ব্রাজিলই। তবে ক্যামেরুন কিপারের কৃতিত্বে কাক্সিক্ষত গোল পায়নি ব্রাজিল। রদ্রিগোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া আর্সেনাল স্ট্রাইকার জেসুস ৫৩ মিনিটে যে শট নিয়েছিলেন তা এক ডিফেন্ডারের শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করলেও এপাসি আয়ত্তে নেন। তিন মিনিট পর জোড়া সেভে মার্তিনেলি ও মিলিতাওকে হতাশ করার পর অ্যান্তোনির প্রচেষ্টাও দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন ক্যামেরুনের কাস্টডিয়ান। শেষদিকেও একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে ব্রাজিলকে জয়বঞ্চিত করেন এপাসি। অতিরিক্ত সময়ে বাজিমাত করেন ক্যামেরুন অধিনায়ক ভিনসেন্ট আবু বকর। ডানদিক থেকে নম বেকেলির ক্রসে আল নাসের এফসির ফরোয়ার্ড বকরের হেড রুখতে পারেননি এদারসন।

সৌদি আরবের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। আর ব্রাজিল গ্রুপ পর্ব শেষ করল হারের লজ্জায়। এর মাঝখানে মরুর বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছে আরও অনেক অঘটন। চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও ইউরোপিয়ান পরাশক্তি বেলজিয়ামকে বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে, ছোট প্রতিপক্ষের কাছে হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগালসহ বড় দলগুলোকে। এই বিশ্বকাপের বাকি অধ্যায়টা আর কী কী চমক নিয়ে হাজির হয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।