ওয়ানডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা পড়তির দিকে। ৫০ ওভারের ম্যাচে টি-টোয়েন্টির মতো টানটান উত্তেজনাও নেই, টেস্ট ক্রিকেটের মতো আভিজাত্যও নেই। অনেকেই তাই ওয়ানডে সংস্করণে খেলাই ছেড়ে দিয়েছেন, সাম্প্রতিকতম উদাহরণ ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস। ঝিমিয়ে পড়া এই সংস্করণই সবচেয়ে পছন্দ বাংলাদেশের, কারণ সাফল্য যে ছকেই বেশি! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং ব্যর্থ অভিযান শেষে এবার দেশের মাটিতে চেনা সংস্করণে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভারত, ৭ বছর পর বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছে প্রতিবেশীরা। তিন ওয়ানডের সিরিজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে, প্রথম দুটো ম্যাচ মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের মতো শীর্ষ তারকাদের নিয়েই বাংলাদেশ সফরে এসেছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরবর্তী বিশ্রাম, ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা কিছুই স্পর্শ করেনি তাদের। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলের নিয়মিত ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল কুঁচকির চোটের কারণে ছিটকে গেছেন সীমিত ওভারের সিরিজ থেকে। টেস্ট সিরিজেও তাকে পাওয়া নিয়ে আছে শঙ্কা। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই ৫ উইকেট পাওয়া তাসকিন আহমেদও পিঠের ব্যথায় খেলছেন না প্রথম ওয়ানডে। ভারতীয় দলেও চোট আঘাতের হিসেব কম নয়। অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা সেরে না ওঠায় দলে নাম ঘোষণার পরও তাকে বাদ দিতে হয়েছে, পেসার মোহাম্মদ সামী চোট নিয়ে ছিটকে গেছেন। তার বদলে দলে নেওয়া হয়েছে উমরান মালিককে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৫ রানের হার, ফেইক ফিল্ডিং এবং জোর করে অপ্রস্তুত মাঠে খেলতে নামিয়ে দেওয়ার যত অভিযোগ; সব কিছুর মোক্ষম জবাবই হতে পারে ওয়ানডে সিরিজটা। সবশেষবার বাংলাদেশ সফরে এসে মুস্তাফিজুর রহমান নামের সাতক্ষীরার এক অচেনা তরুণের কাটারে কাটা পড়েছিল ভারত, ৭ বছরে অবশ্য মুস্তাফিজের রহস্য উদঘাটন হয়ে গিয়েছে। এইবার বাংলাদেশের হাতে কোনো চমক নেই বরং ভারতের উঠতি স্পিডস্টার উমরান মালিক হতে পারেন রোহিতের গোপন অস্ত্র।
পছন্দের ফরম্যাটে নতুন অধিনায়কের অধীনে খেলায় ফিরছেন দুই পুরনো অধিনায়ক। মুশফিকুর রহিম স্বেচ্ছায় আন্তর্জাতিক টি-২০ ছেড়েছেন, মাহমুদউল্লাহ দলে জায়গা হারিয়েছেন। এই দুজন ফিরেছেন ওয়ানডে দলে, যেখানে তাদের বিকল্প কেউ নেই এখনো। তামিমের বদলে লিটনের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করবেন এনামুল হক বিজয়।
নেতৃত্ব অবশ্য আগেও একবার দিয়েছিলেন লিটন, তবে নিউজিল্যান্ডে টি-২০ ম্যাচে সেই অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর ছিল না তার। নিজে গোল্ডেন ডাক-এর শিকার, দল ৭৬ রানে অলআউট, ফিন অ্যালেনের বেধড়ক পিটুনি...কিছুই নিশ্চয়ই মনে রাখতে চান না লিটন। ওয়ানডে নেতৃত্বে হঠাৎ করে এলেও বেশ অনেকদিন ধরেই তাকে ভাবা হচ্ছিল নেতৃস্থানীয় ভূমিকায়, লিটনও বললেন স্বপ্নপূরণের কথা, ‘অনেক মজার ছিল ক্রিকেটার হিসেবে আমার এই যাত্রাটা। অনেক উত্থান-পতন ছিল। এত কিছুর পরও দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারা আমার জন্য অনেকটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো, আমি অনেক অনেক রোমাঞ্চিত। প্রত্যেকেই জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন থাকে। আর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া।’ স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতাটা যেন দুঃস্বপ্ন না হয়, সেটাই নিশ্চয়ই করবেন লিটন। ভারতের বিপক্ষে চওড়া হয় তার ব্যাট। এই সিরিজেও তাকে সেরা ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক দুই ভূমিকাতেই চাইবে বাংলাদেশ।
রোহিত শর্মা কথায় কথায় বলেছিলেন, বিশ্বের অন্য কোনো জায়গার চেয়ে বাংলাদেশে খেলা কঠিন কারণ একমাত্র এখানেই প্রতিপক্ষ দর্শক বেশি থাকে গ্যালারিতে। এবারও জানেন, পরিসংখ্যানে জয়ের পাল্লা ভারী হলেও কাজটা সহজ হবে না, ‘কয়েক বছর ধরেই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা রোমাঞ্চকর। গত ৭/৮ বছরের বাংলাদেশ দল আলাদা। তারা খুবই চ্যালেঞ্জিং, আমরা সহজে জিতিনি। তাদের বিপক্ষে জিততে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। তাদের সঙ্গে প্রতিবারই আমাদের ম্যাচ খুবই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটিও তা-ই ছিল। ২০১৫ সালে তো সিরিজ হেরেছিলাম মনে হয়। আমরা জানি, গত কয়েক বছরে তারা অনেক উন্নতি করেছে। ফলে জিততে গেলে আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। আমাদের জন্য সহজ হবে না।’
এই সিরিজ দিয়েই কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো ফিরলেন ড্রেসিং রুমে, টিম ডিরেক্টর হিসেবে দলের সঙ্গে নেই গত প্রায় এক বছর ধরে এই ভূমিকায় থাকা খালেদ মাহমুদ। সব মিলিয়ে দলে বেশ পরিবর্তনের ছাপ, এবার ভাগ্যে পরিবর্তন এলেই হয়।