খেলাপির দায়ে মামলায় জড়ানো ৩৭ কৃষকের ঋণের তদন্ত শুরু

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারীতে আলোচিত ৩৭ ঋণখেলাপি কৃষকের ঋণের বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এখন পাবনায়। 

রবিবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি পাবনা শহরের এলএমবি মার্কেটে অবস্থিত পাবনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেডের কার্যালয়ে যায়।

বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (পরিদর্শন) মো. আহসানুল গণির নেতৃত্ব গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপব্যবস্থাপক (পরিদর্শন ও আইন) মো. আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকল্প ঋণ) মো. আমিনুল ইসলাম রাজীব। পরে তারা পাবনা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় পাবনা জেলার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী এবং পাবনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো. বিশ্বাস রাসেল বলেন, বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন। তিনি সুদ মওকুফ করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছেন। এ সময় মো. আহসানুল গণি জেলা প্রশাসককে জানান, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

মো. আহসানুল গণি বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ঋণখেলাপি সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষৎ করবেন। এ সময় তারা পল্লী প্রকল্প ঋণ গ্রহীতা সদস্যদের সঙ্গে ঋণ প্রদান, আদায় ও পরিশোধ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র সম্পর্কিত সব তথ্য পর্যলোচনাপূর্বক তদন্ত করবেন। পরে ঢাকায় গিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাবনা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ নভেম্বর সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝর্ণা প্রভা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানানো হয়। 

২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের ৩৭ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তাদের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাদের জামিন হয়।