বিশ্বাস ছিল মেহেদি হাসান মিরাজের আর তাকে সাহস জুগিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। দুজনের বিশ্বাস আর সাহসের যুগলবন্দিতেই ভারতের বিপক্ষে শেষ উইকেটে শ্বাসরুদ্ধকর জয় বাংলাদেশের। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে ম্যাচসেরা মিরাজ জানালেন, সৃষ্টিকর্তা আর নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল পারবেন জেতাতে। ভারতের পক্ষে ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা লোকেশ রাহুল জানালেন ক্যাচ মিসেরই মাশুল দিয়েছে তার দল।
যখন ব্যাট করতে নামেন মিরাজ, তখন জয়ের জন্য বাংলাদেশের স্কোর ১২৮-৬। উইকেটে এসে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন আফিফ হোসেনকে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আফিফকে নিয়েই কঠিন এক ম্যাচ জেতানোর নজির আছে বছরের শুরুতে। কিন্তু আফিফ দ্রুত বিদায় নিলেই কপালে চিন্তার ভাঁজ মিরাজের। তখনো জয়ের জন্য পঞ্চাশ রানের মতো বাকি। মিরাজের চিন্তা ছিল, ‘আমি ভেবেছিলাম এবাদতের সঙ্গে ১০-১৫ রান করব, এরপর হাসান মাহমুদের সঙ্গে ১০-১৫ রান করব আর শেষদিকে মোস্তাফিজের সঙ্গে বাকি রানটা করব।’ কিন্তু তার পরিকল্পনার সঙ্গে মেলেনি মাঠের প্রেক্ষাপট, এবাদত আর হাসান মাহমুদ দুজনেই দ্রুত বিদায় নিলে শেষের বন্ধুর পথটা বন্ধু মোস্তাফিজকে নিয়েই পাড়ি দিতে হয়েছে মিরাজকে।
কঠিন সেই যাত্রায় মোস্তাফিজের সাহসের প্রশংসা করলেন মিরাজ, ‘‘এরকম অবস্থায় নিজের চেয়ে অন্য দিকের ব্যাটসম্যানকে নিয়েই চিন্তাটা বেশি হয়। আমাকে মোস্তাফিজ অনেক সাহস জুগিয়েছে। সে এসে আমাকে বলেছে, ‘আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না, আমি ঠিক ঠেকিয়ে দেব। গায়ে পায়ে বল লাগলেও আমি আউট হব না’, এসব বলে সে আমাকে অনেক সাহস জুগিয়েছে।’’
নিজের ৩৯ বলে ৩৮ রানের ইনিংসটা নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘যখন শেষ উইকেট তখন তো ডু অর ডাই। আমি চেষ্টা করেছি, সব বলে কিন্তু চালাইনি। যে বোলারকে টার্গেট করেছি, তাদের ওপরে ওপরে খেলেছি। একটা ক্যাচ উঠেছিল, ওরা নিতে পারেনি। বাকিদের বেলায় এক এক করে খেলার চেষ্টা করেছি। মোস্তাফিজ খুব সাহস দিয়েছে, ও এসে বলেছে কোনো তাড়া নেই। সাড়ে তিন করে রান লাগে, হয়ে যাবে।’
উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুল অনেকটা দৌড়ে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে গিয়েছিলেন উঁচুতে উঠিয়ে দেওয়া মিরাজের ক্যাচটা ধরতে। তখন মিরাজের রান ১২। ধরতে পারলে হয়তো ম্যাচটা অন্যরকমই হতে পারত। তবে ফসকে গেছে ক্যাচ, সেই সঙ্গে ম্যাচও। নিয়মিত উইকেটরক্ষকের কাজটা করেন না রাহুল, আজ যে উইকেটের পেছনে দাঁড়াতে হবে সেটা জেনেছেন মাঠে এসে, ‘আপনি গত বছর দুয়েক ধরে আমাদের খেলা দেখলে দেখবেন আমাকে প্রায়ই কিন্তু উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয় আর আমি এই ভূমিকায় অভ্যস্ত। যদিও আমাদের নিয়মিত উইকেটরক্ষক ঋষভ পান্থ। কেন তাকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আমি জানি না, আমাদের মেডিকেল বিভাগ বলতে পারবে। মাঠে এসে ড্রেসিংরুমে তাকে না দেখে অবাক হয়েছি। মাঠে এসেই জানতে পেরেছি আজ (রবিবার) আমাকে উইকেটরক্ষকের ভূমিকা পালন করতে হবে।’
রাহুলের কণ্ঠে মিরাজের ব্যাটিংয়েরও প্রশংসা, ‘বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছে। ওরা বেশ কতগুলো ম্যাচ খুব কাছে এসে হেরেছে। এবার ওরা জিতল, আমাদের ক্যাচিংটা ভালো হয়নি। আমি আশা করেছিলাম রানটা ২৩০ এর বেশি হবে।’
৭ বছর আগে, ২০১৫ সালে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসে মোস্তাফিজের বোলিংয়ের কাছেই হেরেছিল ভারত। এবারও প্রথম ম্যাচে মোস্তাফিজও হারিয়ে দেওয়ার অন্যতম নায়ক, তবে একেবারেই ভিন্ন ভূমিকায়!