কোয়ার্টারে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের উত্তাপ

সেনেগালের বিপক্ষে জয়ের পর ইংল্যান্ডের সংবাদ মাধ্যম হয়ে গেল ফ্রান্সময়। কোয়ার্টারে তাদের মুখোমুখি হওয়ায় কোয়ার্টারে ওঠার আনন্দ দমিয়ে ইংলিশদের কথা বলতে হলো ওই লড়াই নিয়ে। ম্যাচটি কতটা চ্যালেঞ্জের, কীভাবে জিততে হবে এসব উঠে এলো সংবাদ সম্মেলনে। এ ছাড়া অবশ্য উপায়ও নেই। ম্যাচটি যে ফ্রান্সের বিপক্ষে। ইংল্যান্ডের জন্য মহাগুরুত্বের ও মর্যাদার। ১৯৮২ সালের পর এই প্রথম বিশ্ব রাজনৈতিক দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই বিশ্বকাপের মঞ্চে। তাই ১০ ডিসেম্বরের ম্যাচ নিয়ে এখনই উত্তেজনার পারদটা সীমা ছাড়ানো অসম্ভব কিছু না। ঠিক একই অবস্থা ফ্রান্সে। দেশের সেরা ক্রীড়া দৈনিক লা কিপ তো ম্যাচের উত্তেজনা বোঝাতে দারুণ এক শিরোনাম দিয়েছে। এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলতে থাকা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া তাদের সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে লিখেছে ‘গড সেভ আওয়ার কিং’ (ঈশ্বর আমাদের রাজাকে রক্ষা করুন)।  

ক্যামেরুন ম্যাচপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারে বসেই কী বলতে হবে বুঝে যান গ্যারেথ সাউথগেট। সংবাদকর্মীদের আর কষ্ট করে প্রশ্ন রাখতে হয়নি। তার আগেই বললেন, ‘আমাদের কী দারুণ একটা দ্বৈরথ দাঁড়িয়েছে, তাই না! এর চেয়ে বড় পরীক্ষা আর কী হতে পারে। ওরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, প্রতিভার অবিশ্বাস্য গভীরতা ওদের, ব্যক্তিগত পর্যায়েও ওদের ফুটবলাররা অনেক উঁচুতে। সেরাদের বিপক্ষে লড়াই দিয়ে আমরা সেরার পরীক্ষাটা দিতে পারব।’

৪০ বছর আগের লড়াইয়ে ফ্রান্সকে হারানোর গৌরব আছে ইংল্যান্ডের। ওই ম্যাচে ব্রায়ান রবসনের জোড়ায় ৩-১ গোলে জিতেছিল ইংলিশরা। তবে এবার লড়াইটা সহজ হওয়ার কথা না। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স পুরোপুরি গতবারের দল নিয়ে আসেনি ঠিক, তবে ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর সেরা একাদশের অনেকেই তো আছেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ‘ছুটন্ত ঘোড়া’ এমবাপ্পেকে থামানোর পরিকল্পনাটা কী ইংল্যান্ডের? বিশ্বকাপে মাত্র ১১ ম্যাচে ৯ গোল করে ফেলেছেন এই তরুণ, এবারের ৪ ম্যাচে ৫টি। এখনো পাঁচদিন বাকি থাকা ম্যাচের পরিকল্পনা এখনই জানাবেন না সাউথগেট। তবে এমবাপ্পেকে নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।

বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের ভরসার জায়গা জুড়ে ছিলেন হ্যারি কেন। কিন্তু গ্রুপ পর্বে গোল না পেয়ে বেশ চাপে ছিলেন। কেনের অবশ্য বড় আসরে দেরিতে জ্বলে ওঠার অভ্যাস আছে। গত ইউরোতে গ্রুপে গোল না পাওয়া কেন কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে গোল করেছিলেন। এবার প্রথম রাউন্ডে তিন অ্যাসিস্ট। শেষ ১৬-তে এসে ইংলিশ অধিনায়কের পা থেকে এলো গোল। এবার ফ্রান্স পরীক্ষা সামনে আসায় বেশ সতর্ক এই তারকা, ‘আমরা আপাতত জয়টাকে উপভোগ করতে চাই। চাপহীন থেকে পরবর্তী খেলা নিয়ে ভাবতে চাই। হ্যাঁ এটা সত্যি সামনে আমাদের জন্য কঠিন একটা ম্যাচ অপেক্ষা করছে। তবে আমরা চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে রাজকীয় লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনতে চাই।’

এদিকে ফ্রান্স তাকিয়ে আছে তাদের দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরোয়ার্ড এমবাপ্পের দিকে। শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের গোলেও অবদান রাখছেন এমবাপ্পে। পোল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেওয়া অলিভিয়ের জিরুর গোলটি হয়েছে তারই রক্ষণচেরা দুর্দান্ত এক পাস থেকে। ছন্দময় এই পারফরম্যান্সের পর নীরবতা ভেঙেছেন এমবাপ্পে। পোল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর ঘোষণার সুরে বলেছেন, বিশ্বকাপ জিততেই কাতারে এসেছেন তিনি! নিজের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন নিয়ে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘এই বিশ্বকাপটা আমার ধ্যানজ্ঞান। আমি এটাতে আবদ্ধ হয়ে আছি।’ এখানেই থামেননি এমবাপ্পে। এরপর যোগ করেছেন, ‘বিশ্বকাপটা জেতার জন্য আমি নিজেকে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেই এখানে এসেছি।’

১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে ‘ডাবল’ অর্জন করতে চায় ফ্রান্স। ১৮ বছরে এক বিশ্বকাপজয়ী এমবাপ্পে এবার ২৩ বছরে জিততে চান দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। অবশ্য এমবাপ্পেও জানেন, পথ এখনো অনেকটাই বাকি। কিন্তু ধাপগুলো পেরিয়ে স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী এমবাপ্পে, ‘আমি আবার বিশ্বকাপ জয়ের জন্য এখানে এসেছি। এই লক্ষ্যে আমি অবিচল। যদিও আমরা আমাদের বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য থেকে এখনো অনেক দূরে। প্রথম চ্যালেঞ্জ কোয়ার্টার ফাইনাল। এখন আমরা এটাতেই মনোযোগ দিচ্ছি।’