সেই স্কুলছাত্রী নিতুর দায়িত্ব নিলেন ডিসি

নারায়ণগঞ্জে দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রীকে স্কুলের বিশেষ ক্লাসের বেতন দিতে না পারায় নির্বাচনী পরীক্ষায় তিন বিষয়ে ফেল করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া হয়। সেই নিতুর সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জরুল হাফিজ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, মেয়েটিকে সামনের তিন-চার মাস ভালোভাবে পড়াশোনা করতে বলা হয়েছে। নিতুর এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন।

গতকাল বিকেলে নিতুকে ডেকে নেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ ডিসি অফিসে। সেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জরুল হাফিজ নিতুর সব কথা ও তার অতীতের মেধাবী রেজাল্ট দেখে আগামী ২০২৩ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ভালোমতো পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেন।

এর আগে বিশেষ ক্লাসের ১২ মাসের বেতন ৬ হাজার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী নিতুকে নির্বাচনী পরীক্ষায় তিন বিষয়ে ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক লায়লা আক্তারের বিরুদ্ধে। নির্বাচনী পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে ৪০ মিনিট আটকে রেখে অকথ্য ভাষায় গালাগালও করা হয়। স্কুলশিক্ষকের এমন আচরণে ওই ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থী ও তারা বাবা। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার স্কুলছাত্রী নিতু নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আজিজুল হকের কাছে লিখিত আবেদন করে।

লিখিত আবেদনে সূচনা দাস নিতু বলে, ‘আমার বাবা একটি প্রতিষ্ঠানের গার্ড ও স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী। আমি নিজে টিউশনি করে আমার পড়াশোনার খরচ চালাই। আমার স্কুলের কোনো মাসের বেতন বকেয়া নেই এবং পরীক্ষার ফিও দিয়েছি নিয়মিত। তবে বিশেষ ক্লাসের বেতন দিতে পারিনি। কারণ স্কুলের বেতন ও নিজের খরচ চালানোর পর বিশেষ ক্লাসের বেতন দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ইতিপূর্বে আমি স্কুল থেকে বেতন মওকুফ চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমার বেতন মওকুফ করেনি।