জার্মানিতে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র, গ্রেপ্তার ২৫

জার্মানিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দেশজুড়ে অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

অভ্যুত্থান পরিকল্পনা ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জার্মানির আইন ও বিচারমন্ত্রী মার্কো বুশম্যান টুইটে লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী বড় ধরনের অভিযান চলছে। জার্মানির সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।’

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অতি ডানপন্থী এবং সামরিক বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের একটি দল পার্লামেন্ট ভবন রাইখস্ট্যাগে হামলা চালিয়ে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করেছিল।

অভ্যুত্থান শেষে কিভাবে জার্মানির শাসন কার্যক্রম চলবে এ নিয়েও নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছিল তারা। জার্মান রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জেডিএফ জানিয়েছে, সংসদের নিম্নকক্ষের একজন সাবেক সদস্যও এর সঙ্গে জড়িত আছেন। ক্ষমতা দখল করতে পারলে তিনি আইন ও বিচারমন্ত্রী হবেন সেটিও ঠিক করে ফেলেছিল উগ্রপন্থি দলটি।

ত্রয়োদশ হেনরিখ নামের ৭১ বছরের একজন ব্যক্তি এই ষড়যন্ত্রের প্রধান হোতা বলে জানানো হয়েছে। তাকে প্রিন্স হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। দেশটির ১১টি প্রদেশ থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুই জনকে পালের গোদা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

আনুমানিক ৫০ জনের একটি দল অভ্যুত্থানের এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। তারা প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করা এবং ১৮৭১ সালের জার্মানির আদলে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র করেছিল।

ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে চরমপন্থী রাইখসবার্গার (রাইখের নাগরিক) আন্দোলনের সদস্যও আছেন। এই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সহিংস হামলা এবং বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্য জার্মান পুলিশের নজরদারিতে আছে। এই গোষ্ঠী আধুনিক জার্মান রাষ্ট্রকে মেনে নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জার্মানির নির্বাহী কৌঁসুলি জানিয়েছেন, ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে এ অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা চলছিল। এরসঙ্গে সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। তারা এলিট ফোর্সের সাবেক সৈন্যদেরও তাদের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।