কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য নির্ধারণ করা জমিতে দখলবাজরা রাতের অন্ধকারে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর।
স্থানীয়রা জানান, মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন দরিদ্র লোকজনের জন্য বাইন্যাঘোনা গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত ৫৪ শতক সরকারের মালিকানাধীন খাস খতিয়ানের জমিতে রাতের আঁধারে স্থাপনা নির্মাণ করে জবর-দখল করে নিয়েছে একদল চিহ্নিত ব্যাক্তি। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বাইন্যাঘোনা গ্রামের ওই জমিটি জবর দখলের ঘটনা ঘটে। পরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রস্তাবিত জমি দখলমুক্তসহ দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গতকাল বুধবার সকালে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) পেকুয়ার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, বাইন্যাঘোনা গ্রামের কবরস্থানের দক্ষিণ পাশে সরকারি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ৫৪ শতক জমি গৃহহীন, ভূমিহীন ও অতি দরিদ্র লোকজনের জন্য মুজিব বর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো সরেজমিনে পরিমাপ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পেকুয়ার দপ্তরে কয়েক মাস আগে প্রস্তাবিত ভূমির নকশাসহ প্রতিবেদন দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে স্থানীয় ভূমিদস্যু মাস্টার রফিক গং।
গত মঙ্গলবার রাতের আঁধারে বাইন্যাঘোনা গ্রামের মৃত জামাল আহমদের তিন ছেলে দখলবাজ চক্রের অন্যতম মাস্টার রফিক আহমদ, রহিম উদ্দিন, মফিজুর রহমান ও কবির আহমদের ছেলে মো. ইউসুফ গং ৫০-৬০ জন অস্ত্রধারী ভাড়াটে সন্ত্রাসী জড়ো করে পলিথিনের ঘেরাবেড়া দিয়ে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, রাতের আঁধারে স্থাপনা নির্মাণের পর পেকুয়ার প্রশাসনকে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে অবহিত করা হয়। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে কল দিলে অন্যতম দখলদার মাস্টার রফিক আহমদ বলেন, কোনো অন্যায় করিনি। খাস জমি হলেও এটা আমাদের দখলে ছিল।
পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার কাজল কান্তি শীল জানান, সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাইন্যাঘোনার সরকারি খাস জায়গা দখলের সত্যতা পেয়েছেন। তিনি বিষয়টি পেকুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দপ্তরে লিখিতভাবে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
পেকুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, খুব শিগগিরই মগনামা বাইন্যাঘোনা গ্রামে খাস জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদসহ দখলবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।