ছাত্রদল কর্মীকে ‘আ.লীগ কর্মী’ বলে ছাড়িয়ে নিলেন সভাপতি

গাজীপুরের শ্রীপুরে নাশকতার মামলায় আটক ছাত্রদলের এক কর্মীকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটক করলেও তাকে ‘সরকারদলীয় কর্মী’ পরিচয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাড়িয়ে নিয়েছেন। এমন খবরে হইচই পড়েছে শ্রীপুরজুড়ে। ঘটনাটি এখন টক অব শ্রীপুর। আটক কর্মীকে ওই দিন মধ্যরাতে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির হিমু।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ তোলেন, বিশেষ সুবিধা পেয়ে এমন কান্ড ঘটানো হয়েছে। ওই ছাত্রদলকর্মী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থীও হয়েছিলেন। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার রাতে। পরে গত মঙ্গল এবং গতকাল বুধবার সারা দিন উপজেলাজুড়েই ঘটনাটি ছিল আলোচনার শীর্ষে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ২৩ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। গত ২৯ নভেম্বর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ওই মামলাটি করেন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আরও বলেন, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ নাসিম মন্ডলকে আটক করে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশেষ সুবিধা দিলেই ‘আমাদের কর্মী’ বনে যান। আর যারা নিজ দলীয় কাজে ত্যাগী আর নিবেদিত তারা অনেকেই আজ নানাভাবে নির্যাতিত, হামলা-মামলায় জর্জরিত। ছাত্রলীগ বা অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আগের রাজনৈতিক কোনো মামলায় আটক হলেও তাদের ছাড়াতে অনেকে এগিয়ে আসেন না। সভাপতির এমন কা- আমাদের হতবাক করেছে।

শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আক্তারুল ইসলাম বলেন, নাসিম মন্ডল ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিল। এর আগে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থীও হয়েছিল। সে এখন নকলনবিশের কাজ করে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মো. নাসিম মন্ডলকে আটকের পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির হিমু সুপারিশ করেছেন তার পক্ষে। তিনি (হুমায়ুন কবির হিমু) বলেছেন, নাসিম নাশকতায় জড়িত নন, তিনি আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক, আমাদের কর্মী।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছাড়তে হলো নাশকতার সন্দেহ আটক ছাত্রদলকর্মীকে। এমন কাজে আমরা বিব্রতবোধ করছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির হিমু মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি প্রত্যয়নপত্র বা সুপারিশ করেছি তা পুলিশের কাছ থেকে জেনে নেন। আমার কাছে কেন জানতে চাচ্ছেন? ওসির কাছ থেকে খবর নেন।’ বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ফোন রেখে দেন।