থাইল্যান্ডের ফুকেট এলাকার নিকটবর্তী অঞ্চলে আন্দামান সমুদ্রে দুইশর বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে একটি নৌকা সাত দিনের বেশি সময় ধরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।
বিবিসি থাই সার্ভিস জানিয়েছে, নৌকায় থাকা শরণার্থীদের অধিকাংশই নারী ও শিশু, যাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন খাবার ও পানির অভাবে এরই মধ্যে মারা গেছে। নৌকাটি কয়েক দিন আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশন একটি এক মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করে, যাতে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নৌকায় অবস্থান করতে দেখা যায়। ওই ভিডিওটি ধারণ করার সময় নৌকাটি থাইল্যান্ডের পশ্চিমে ফুকেট প্রদেশের কাছে আন্দামান উপকূলে অবস্থান করছিল। এই শরণার্থীরা বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে নৌকায় উঠেছিল বলে জানায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।
থাইল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী সাইদ আলম বিবিসি থাইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, গত বুধবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। টেলিফোনে বিবিসি থাই সার্ভিসকে তিনি বলেন, ‘অনেকেই মারা যাওয়ার পর তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের খাবার শেষ হয়ে গেছে, নৌকায় পানি উঠছে। থাই সেনাবাহিনীর একটি জাহাজ দুই দিন আগে শরণার্থী বহনকারী নৌকার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাদের সহায়তার আশ্বাস দেয়, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সংস্থাই নৌকাটির সহায়তায় পদক্ষেপ নেয়নি।’
বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ কাছাকাছি দেশগুলোতে পালানোর ঘটনা এর আগে অনেকবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে যে অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর এমন সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা অনেক বেশি ঘটছে। বাংলাদেশ উপকূল থেকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত বছর ছিল ২০১৫। সে বছর থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রঘেঁষা গহীন অরণ্যে একের পর এক গণকবর আবিষ্কৃত হয়। পরে জানা যায় ভাগ্য বদলাতে সমুদ্র আর জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা হতভাগ্য বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের কবর সেগুলো।