২০০২ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা দুই আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে যাওয়া। ২০১৪-তে ঘরের মাঠে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জা। পরের আসরে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে আবারও শেষ আট থেকে বিদায়ের পরিণতি। এভাবেই কেটে গেছে কুড়িটি বছর। বারবার মাঝপথেই থেমে গেছে হেক্সা মিশন। সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বকাপ জেতা ব্রাজিলের একটা প্রজন্ম জানে না বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাহাত্ম্য। এবারও কি সেই দুর্ভাগ্যই বরণ করতে হবে? আবারও কি কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে যাবে সাম্বার ছন্দ? এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে বিষাদের রঙ কি নেবে হলুদ বরণ? নাকি আরেকবার বিস্ফোরিত হয়ে সেলেসাওরা ক্রোয়েশিয়াকে বিদায়ের পথ দেখিয়ে সদর্পে পা রাখবে সেমিফাইনালের মঞ্চে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আজ গ্যালারির বেশিরভাগই থাকবে ব্রাজিলিয়ানদের দখলে।
বিস্তারিত পড়ুন: গেরো ভাঙার চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের
‘প্রিয় লিও, দেড় যুগ ধরে প্রতি সপ্তাহে যেভাবে বিনোদন দিয়েছ জাদুকরী ফুটবলে, তার ঋণ শোধাবার নয়। তুমি আছো বলেই আমরা স্বপ্ন দেখি। তুমি আছো বলেই বিশ্বাস করি, আবার আমরা বিশ্বসেরা হব। তুমি আছো বলেই...’
মেসিকে নিয়ে গাওয়া অনেক গানের একটি স্প্যানিশ ভাষায় গুনগুন করছিলেন বুয়েনস আয়ার্স থেকে বিশ্বকাপ দেখতে আসা ষাট বছরের লুকা ম্যাথিউস। মেট্রোতে পাশে বসে তার কাছ থেকেই তর্জমাটা জেনে নেওয়া। সেটা জানার পর জানতে চাওয়া, ‘বিশ্বসেরা হতে হলে তো আরও তিন ম্যাচ জিততে হবে এবং প্রতিবারই মেসিকে দেখাতে হবে জাদু। তারও আগে কাল (আজ) পেরুতে হবে নেদারল্যান্ডস বাধা?’ ম্যাথিউস প্রশ্নটা শুনেই বাহুতে আঁকা ম্যারাডোনা ও মেসির ট্যাটু দেখিয়ে বললেন, ‘এটা এখানে আসার আগে করিয়েছি। দেখে নিও, ম্যারাডোনা ১৯৮৬তে যেটা করেছে, সেটা এবার মেসি করে দেখাবে। কারণ ওর সঙ্গে ঈশ্বর আছেন।’
বিস্তারিত পড়ুন: ডাচ প্রতিশোধ নাকি আর্জেন্টিনারই জয়
বিশ্বকাপ, ব্রাজিল, নেইমার, হেক্সা... সমর্থকদের কাছে শব্দগুলো এক সুতোয় গাঁথা। তবে শব্দগুলো এক সুতোয় গাঁথতে গেলেই অনাকাক্সিক্ষত একটা শব্দ ঢুকে পড়ে, সেটা হচ্ছে চোট। বিশ্বকাপে নেইমার চোট পাবেন না, এমনটা হয় না। এ যেন চিরন্তন সত্য। কাতারেও নেইমার এসেছেন, প্রথম ম্যাচে সার্বিয়ার বিপক্ষে ৯টা ফাউলের শিকার হয়ে দুটো ম্যাচে দর্শক হয়েছেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে গোলও করেছেন। বিশ্বকাপে নেইমার আর কতটা ম্যাচ খেলতে পারবেন, সেটা আসলে ঠিক করতে হবে নেইমারকেই। আজ ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারলে এবারের মতো এখানেই শেষ হেক্সার স্বপ্ন, আর জিতলে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সম্ভাব্য সেমিফাইনাল।
বিস্তারিত পড়ুন: নেইমার নৃত্যের অপেক্ষা
টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে আত্মবিশ্বাসের হাওয়ায় উড়তে থাকা আর্জেন্টিনাকে বাস্তবের জমিনে নামিয়ে এনেছিল সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলের হার। ওই এক হারেই খেলোয়াড়, সমর্থক সবার মনেই জন্মেছিল অবিশ্বাসের চারাগাছ। মেক্সিকোর বিপক্ষে পরের ম্যাচের প্রথমার্ধে সেই চারাগাছ জলহাওয়া পেয়ে আরও বড় হচ্ছিল, শেকড় ছড়িয়ে দিচ্ছিল গভীরে। মেক্সিকোর বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে করা শটে গোল করে সেই অবিশ্বাসের চারাগাছটা উপড়ে ফেলেছেন লিওনেল মেসি, এরপর আর পেছন ফিরে তাকানো নয়। সব অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে মেসি আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এসেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে, বিশ্বকাপ জেতার আক্ষেপ ঘোচাতে জিততে হবে আর মাত্র তিনটা ম্যাচে।
বিস্তারিত পড়ুন: মেসির জাদুর পৃথিবী