যুদ্ধবিমান বানাতে জোট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগাতে পারে এমন যুদ্ধবিমান বানাতে যুক্তরাজ্য, ইতালি ও জাপানের যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। যুক্তরাজ্যে কয়েক হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এই যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিবিসি বলছে, এই তিন দেশ মিলে যে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বানাবে তা ধীরে ধীরে ‘টাইফুন’ জেটের জায়গা দখল করে নেবে। নতুন এ যুদ্ধবিমানগুলো আগামী দশকের মাঝামাঝি বাহিনীতে যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন এ ‘টেম্পেস্ট’ জেট অত্যাধুনিক অস্ত্র বহনে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিবিসি বলছে, যুদ্ধবিমানটি বানানোর কাজ এরই মধ্যে শুরুও হয়ে গেছে। প্রকৌশলীদের লক্ষ্য এমন একটি যুদ্ধযান বানানো যেটি শত্রুপক্ষের রাডার ফাঁকি দিয়ে দ্রুতগতিতে চলতে পারবে, অত্যাধুনিক সেন্সর এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করতে পারবে; যা বিহ্বল হয়ে পড়া বা তীব্র চাপে থাকা পাইলটকে সহায়তা দেবে। প্রয়োজনে পাইলটের নির্দেশনা ছাড়াই বিমানটি উড়তে পারবে, পারবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তেও।

এ ধরনের জটিল যুদ্ধবিমান বানাতে বিপুল ব্যয় হয়। ব্যয়ের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাজ্য অনেক দিন ধরেই প্রকল্পটির জন্য অংশীদার খুঁজছিল; ইতালি আগেই রাজি ছিল, সর্বশেষ জাপানও যুক্ত হলো। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের আরও আগ্রাসী আচরণ নিয়ে উদ্বেগ থেকে ব্রিটেন যখন তার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করছে, তখন জাপানের এমন প্রকল্পে যুক্ত হওয়াকে কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলছেন বিশ্লেষকরা। অন্য দেশগুলোও এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পারে। ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেন ইতিমধ্যে একসঙ্গে তাদের নিজস্ব নকশার বিমান নিয়ে কাজ করছে, কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রও।

যুক্তরাজ্যের জন্য নতুন বিমান বানাতে তিন দেশের মধ্যে হতে যাওয়া চুক্তিটি কেবল নিরাপত্তা নিয়ে নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন এ যুদ্ধবিমান বানানোর কাজে যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আরও অস্ত্র রপ্তানির দুয়ার খুলবে, এমনটাই আশা লন্ডনের।

শুক্রবার লিঙ্কনশায়ারে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) কনিংসবি ঘাঁটি সফরকালে সুনাক ত্রিদেশীয় এ প্রকল্পের প্রথম বড় পর্বের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। বিমানঘাঁটিতে যাওয়ার আগে তিনি বলেছেন, তার সরকারের কাছে যুক্তরাজ্যের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।