নাব্য সংকটে কর্মহীন ৫ শতাধিক শ্রমিক

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দর থেকে চট্টগ্রাম এবং মোংলা নৌবন্দর রুটের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও বড়াল নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মাত্রাতিরিক্ত ডুবোচরের কারণে চলতে পারছে না পণ্যবাহী জাহাজ। শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই অস্বাভাবিক নাব্য সংকটে রাসায়নিক সার, কয়লা, পাথর, সিমেন্ট ও জ¦ালানি তেলবাহী কার্গো-জাহাজ পূর্ণলোড নিয়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে যেতে পারছে না। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নৌবন্দরটিতে কর্মরত পাঁচ শতাধিক শ্রমিক।

বাঘাবাড়ী নৌবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, পাটুরিয়া ও নগরবাড়ির আগেই লাইটারেজের মাধ্যমে জাহাজ থেকে অর্ধেক মাল আনলোড করে বেড়া, নগরবাড়ি ও যশোরের নওয়াপাড়া ঘাটে খালাস করতে হচ্ছে। এতে জাহাজশূন্য হয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর।

অপরদিকে নগরবাড়ি, বেড়া ও যশোরের নওয়াপাড়া থেকে ১০ চাকা অথবা ১৬ চাকার ট্রাকে করে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের বাফার গুদামে সার এনে এরপর উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে মহাসড়কের ক্ষতির পাশাপাশি সঠিক সময়ে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ১৪টি বাফার গুদামে আসন্ন সেচ মৌসুমের আগে ইরি-বোরো আবাদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী রাসায়নিক সার মজুতে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আসন্ন সেচ মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় রাসায়নিক সারের সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের কর্মহীন শ্রমিকরা কাজ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের চরাচিথুলিয়া গ্রামের কৃষক সোহেল মোল্লা, আব্দুল আলিম ফকির, রেশমবাড়ি গ্রামের ফিরোজ হোসেন, বৃ-আঙ্গারু গ্রামের শামীম হোসেন, পোতাজিয়া গ্রামের আজম আলী জানান, সঠিক সময়ে সার মজুত না হলে উত্তরাঞ্চলে রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এতে আসন্ন ইরি-বোরো আবাদ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা দূর করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের শ্রমিক আলমগীর হোসেন, ওমর ফারুক ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত ৪০ বছরে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে এমন জাহাজশূন্য দেখিনি। পরিবার নিয়ে পাঁচশ বেশি শ্রমিক কষ্টে আছি।

এ বিষয়ে বাঘাবাড়ী নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ের পরিচালক আব্দুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, চর নাকালিয়া, পেচাকোলা, মোল্লার চর, ব্যাটারির চর, পাটুরিয়া, নিকলি এলাকায় নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় অনেক ডুবোচরের দেখা মিলছে। ফলে পূর্ণলোডে পণ্যবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর জাহাজ শূন্য হয়ে অচল হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এ সব চরে আটকাবস্থা জাহাজে প্রতিনিয়ত ডাকাতি হচ্ছে।

বাঘাবাড়ী নৌবন্দর লেবার এজেন্ট আবদুল সরকার বলেন, কোটি টাকা দিয়ে বাঘাবাড়ী ঘাট ইজারা নিয়েছি। জাহাজ না আসায় পাঁচ শতাধিক লেবার বেকারসহ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

বাঘাবাড়ী নৌবন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, বাঘাবাড়ী দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দর। এ বন্দর চ্যানেলে নিয়ম অনুযায়ী ৭ থেকে ৮ ফুট ড্রাফটের জাহাজ চলার কথা। সেখানে ১০-১২ ফুট ড্রাফটের জাহাজ নিয়ে গেলে তো সমস্যা হবেই।