কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অচল হয়ে পড়ে আছে ইউনিয়ন কৃষি আবহাওয়া তথ্য বোর্ড ও রেইনগেজ মিটার। ফলে সঠিক সময়ে আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এখানকার কৃষক। এতে করে একদিকে ফসলহানিসহ প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। অন্যদিকে, পূরণ হচ্ছে না সঠিক সময়ে কৃষি আবহাওয়ার তথ্যসেবা কৃষকদের দেওয়ার সরকারি লক্ষ্য।
জানা যায়, কৃষি আবহাওয়াবিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্য কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো ভৈরবের ৭টি ইউনিয়নে স্থাপন করা হয়েছিল ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য বোর্ড ও রেইনগেজ মিটার।’ বোর্ডে রয়েছে আগে ও পরের তিন দিনের কৃষিভিত্তিক আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্যের নানা ছক। আর ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে রেইনগেজ মিটার ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিজ নিজ ইউনিয়নে স্থাপিত এসব তথ্য বোর্ড প্রতি তিন দিন পরপর হালনাগাদ করার কথা। যাতে করে ওইসব এলাকার কৃষকরা আবহাওয়ার তথ্য সঠিকভাবে পান এবং ফসল ফলানো এবং যতেœর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন।
কিন্তু স্থাপনের পর থেকে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা না করায় এবং রেইনগেজ মিটারগুলোর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ ছাড়া এই বিষয়ে কৃষকদের মাঝে যথাযথভাবে প্রচার ও অবহিতকরণ না করায় তারাও এই সেবার বিষয়ে অবগত নন বলে অভিযোগ করেন উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃষক এরশাদ মিয়া ও রবিউল ইসলাম এবং শিমূলকান্দি ইউনিয়নের পাঁচঘরহাটি গ্রামের নাছির উদ্দিন।
যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনের পরপরই এই তথ্যসেবা কার্যক্রমটি মুখ থুবড়ে পড়ে। এতে করে সরকারের অর্থব্যয়ে গ্রহণ করা প্রকল্পটি ব্যর্থতায় পতিত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশজুড়ে ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্যপদ্ধতি উন্নতিকরণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি হাতে নেয়।
এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ৪ হাজার ৫১টি ইউপিতে স্বয়ংক্রিয় রেইনগেজ মিটার ও কৃষি আবহাওয়া তথ্য বোর্ড স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবহাওয়াবিষয়ক তথ্য পাঠানোর জন্য ইন্টারনেট সংযোগসহ ৬ হাজার ৬৬৪টি ট্যাব সরবরাহ করা হয়। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ১১৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় শেষ হয় ২০২১ সালের জুন মাসে।
এই প্রকল্পের কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকরা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়ের পূর্বাভাস, আলোকঘণ্টাসহ ১০টি বিষয়ে তথ্য জানার কথা। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাঠপর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদেকপুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামাল মিয়া বলেন, আবহাওয়া তথ্য বোর্ডটি চালু করার পর নিয়মিত তিন দিন আগের ও পরের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানানো হতো। কিন্তু কিছুদিন সচল থাকার পর হঠাৎ রেইনগেজ মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বোর্ডটির স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, বর্তমানে কয়েকটির যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক ত্রুটির জন্য কার্যক্রম বন্ধ আছে।