আপনার জিজ্ঞাসা

শিক্ষার্থীদের নফল ইবাদতের হুকুম কী?

প্রশ্ন : অনেকেই বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ইশরাক, আওয়াবিন ও তাহাজ্জুদসহ অন্য নফল ইবাদতে সময় ব্যয়ের চেয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য সময় ব্যয় উত্তম এবং ছাত্র অবস্থায় নফল ইবাদতের প্রয়োজন নেই। কোনো কোনো কিতাবেও বলা হয়েছে, জ্ঞানার্জন নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম। এ বিষয়ে শরিয়তের অবস্থান কী?

-মো. শহীদুল ইসলাম, মধুপুর, টাঙ্গাইল

উত্তর : একজন তালেব ইলম তথা শিক্ষার্থীর জন্য ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতে মোয়াক্কাদা আদায়ের পর প্রধান দায়িত্ব হচ্ছেইলম তথা জ্ঞানের চর্চা। এতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানো উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের মূল কাজ শিক্ষার্জনের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত-বন্দেগি ও অজিফা আদায়ে মশগুল থাকা উচিত নয়। কিন্তু এ কথার অর্থ এই নয়, শিক্ষার্থীরা কোনো নফল ইবাদত করবে না। বরং কিছু কিছু নফল আমল তাকেও করতে হবে।

যেমন, নিয়মিত কোরআনে কারিমের তেলাওয়াত ও দৈনন্দিন পঠিত দোয়ার ব্যাপারে যতœবান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ রাতে জাগা সম্ভব হলে কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদ পড়বে আর কোনো সমস্যার কারণে শেষ রাতে জাগা সম্ভব না হলে, শোয়ার আগে কিয়ামুল লাইলের নিয়তে দু-চার রাকাত নফল নামাজ পড়বে। দিনের শুরুতে দুই রাকাত করে চার রাকাত চাশত ও ইশরাকের নামাজ এবং মাগরিবের পরে দুই-চার রাকাত যা সম্ভব হয় আদায় করবে। এই সামান্য পরিমাণ নফল এবং অল্প পরিমাণে সহজ কিছু জিকিরের আমল এমন কিছু বেশি কাজ নয়, যা শিক্ষার্জনের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। বরং কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে অন্তরের পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়, যা জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে উন্নতি ও অগ্রগতির পক্ষে সহায়ক।

নফল ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি যাবতীয় গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহভীতির গুণ অর্জন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জনে সচেষ্ট হওয়াও সবার জন্য সর্বাবস্থায় জরুরি। সুতরাং ‘নফল ইবাদত-বন্দেগির তুলনায় জ্ঞানচর্চায় মশগুল থাকা উত্তম’ যে কথাটি বলা হয়, সেটা মূলত অধিক পরিমাণে নফল ও জিকির-আজকারে মশগুল থাকার ব্যাপারে। অর্থাৎ ইবাদত-বন্দেগিকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সারাক্ষণ দিনরাত এই এক কাজেই ব্যস্ত থাকা। এমন অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য কাম্য নয়।