নরসিংদীর রায়পুরার শেরপুরে একটি কলাক্ষেতে জোড়া খুনের ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
রবিবার ভোরে কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আল আমিন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- রায়পুরা থানার শেরপুর পশ্চিম পাড়ার তাজুল ইসলামের ছেলে রহমত উল্লাহ (৩২) ও শেরপুর কান্দাপাড়ার লুৎফর মাস্টারের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৫ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে রায়পুরার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের শেরপুর এলাকার একটি কলাক্ষেত থেকে অজ্ঞাত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা কলাক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া মুখমণ্ডল বিকৃত দুই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন।
পরে রাতেই নিহত আলী হোসেনের স্ত্রী রেণু বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা করেন।
দুই মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও প্রযুক্তির সহায়তায় রায়পুরার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে কামরুল ও কাউসারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নামসহ দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রদান করেন।
তাদের দেওয়া তথ্যে গোয়েন্দা পুলিশ রবিবার ভোরে কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রহমত ও সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দুইটি জ্যাকেট ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারাসহ মোট ৬ জন এই হত্যায় অংশগ্রহণ করে বলে জানায়। অনলাইন জুয়া খেলার টাকা-পয়সা লেনদেনের বিরোধ ও নারী ঘটিত বিষয়ের জেরে দুইজনকে পরপর কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে জোড়া খুনের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।