প্রশ্ন : আমার বাবা ব্যাংকে একটি হজ ডিপোজিট করেছেন। তাতে প্রতি মাসে দশ হাজার টাকা করে জমা রাখেন। তিন বছরে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমা হয়েছে। আমার বোনের অপারেশনের কারণে এ বছর হজে যেতে পারেননি। আমার প্রশ্ন, বাবার হজের উদ্দেশ্যে জমাকৃত টাকার জাকাত দিতে হবে কি না?
-মো. আরিফুল ইসলাম, বাংলাবাজার, ঢাকা
উত্তর : জমাকৃত টাকা নেসাব পরিমাণ হওয়ার পর বছর অতিবাহিত হলে তার জাকাত আদায় করতে হবে। যদিও তা হজের বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জমা করা হোক। যতক্ষণ না টাকাগুলো ওই কাজে খরচ করা হবে তা জাকাতযোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত থাকবে। সুতরাং আপনার বাসায় জমাকৃত টাকা নেসাব পরিমাণ হওয়ার পর বছর অতিক্রান্ত হলেই তার জাকাত দিতে হবে। -রদ্দুল মুহতার: ২/২৬১
প্রশ্ন : একটি ব্যাংকে চার লাখ টাকা তিন বছর মেয়াদি চুক্তিতে ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ রাখি। যেহেতু চাইলেই তিন বছরের আগে ওই টাকা পাব না, তাই আমি ওই টাকার জাকাত দিইনি। সেদিন একজন বললেন, ওই টাকার জাকাত দিতে হবে। আমার করণীয় কী?
-মুহাম্মাদ নাহিদ হাসান, ভৈরব
উত্তর : ফিক্সড ডিপোজিট থাকলে আপনাকে প্রতি বছর ওই টাকার জাকাত দিতে হবে। কারণ ওই টাকার পূর্ণ মালিক আপনি। আর জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য টাকা হাতে থাকা শর্ত নয়। কারও কাছে বা কোনো প্রতিষ্ঠানে জমা রাখলে সেই টাকারও জাকাত দিতে হয়। সুতরাং বছর পূর্ণ হলেই অন্যান্য সম্পদের সঙ্গে ওই টাকার জাকাত দিতে হবে। -ফাতাওয়া খানিয়া: ১/২৫৭
চার লাখ টাকার তিন বছরের জাকাত একসঙ্গে দিতে হলে, আপনাকে প্রথম বছর চার লাখ টাকার জাকাত দশ হাজার টাকা দিতে হবে। দ্বিতীয় বছর চার লাখ টাকা থেকে দশ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তিন লাখ নব্বই হাজার টাকার জাকাত ৯,৭৫০/- টাকা, তৃতীয় বছর তিন লাখ নব্বই হাজার টাকা থেকে ৯,৭৫০/- টাকা বাদ দিয়ে তিন লাখ আশি হাজার দুই শত পঞ্চাশ টাকার জাকাত ৯,৫০৬/- টাকা জাকাত দিতে হবে। এভাবে চার লাখ টাকার তিন বছরের জাকাত মোট ২৯,২৫৬/- টাকা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করে অতিরিক্ত অর্থ ভোগ করা জায়েজ নয়। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দেওয়া আবশ্যক। - ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৩/২৩২