সৃষ্টিগতভাবে নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী ছাড়া পুরুষ এবং পুরুষ ছাড়া নারীর জীবন অসম্পূর্ণ। আল্লাহতায়ালা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টির পর হজরত হাওয়া আলাইহিস সালামকে তার জীবনসাথিরূপে সৃষ্টি করেন এবং তাদের বিয়ের ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে দেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনো পৃথিবীতে চলমান।
এমনকি অনন্ত অনাবিল সুখের জান্নাতেও নারী-পুরুষ পরস্পরের সঙ্গবিহীন অতৃপ্ত থাকবে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আর তার (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ সুরা রুম : ২১
মানুষের স্বভাবজাত পরিচ্ছন্নতা, মানসিক ভারসাম্য, চারিত্রিক উৎকর্ষ ও পবিত্রতা রক্ষার অন্যতম উপায় বিয়ে। মানবতার ধর্ম ইসলাম নারী-পুরুষের মধ্যে সুন্দর ও পূতপবিত্র জীবনযাপনের জন্য বিয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা বিয়ে করো তোমাদের পছন্দের নারীদের থেকে, দুজন অথবা তিনজন অথবা চারজন; কিন্তু যদি আশঙ্কা করো যে তোমরা ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ করতে পারবে না, তাহলে মাত্র একজন।’ সুরা নিসা : ৩
হজরত আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত, যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কেননা আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।’ ইবনে মাজাহ : ১৮৪৬
হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) সূত্রে বর্ণিত, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, চারটি জিনিস নবী (সা.)-এর সুন্নতের অন্তর্ভুক্তলজ্জা, সুগন্ধি ব্যবহার, মিসওয়াক করা ও বিয়ে করা।’ সুনানে তিরমিজি : ১০৮০
অন্য হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ওই পুরুষ মিসকিন! মিসকিন!! মিসকিন!!! যার কোনো স্ত্রী নেই, যদিও সে ধনবান হয়। আর ওই নারী মিসকিন! মিসকিন!! মিসকিন!!! যার কোনো স্বামী নেই, যদিও সে সম্পদের মালিক হয়।’ আল মুজামুল আওসাত : ৬৫৮৯