যেন ঈশ্বরের পায়ে খেললেন মেসি

বাঁ পায়ের খুদে জাদুকর জাদুর বাক্স খুললেন, পুরো ৯০ মিনিটে সেই জাদুতে সম্মোহিত করে রাখলেন লুসাইল স্টেডিয়ামের বিশাল গ্যালারিকে। পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইনদের এগিয়ে নেওয়ার পর জুলিয়ান আলভারেজকে দিয়ে করালেন জোড়া গোল। তাতেই ভেঙে গেল ক্রোয়েশিয়ার সব প্রতিরোধ। ৩৬ বছরের স্বপ্নপূরণের পথে দেশকে আরেকটি অসাধারণ জয় উপহার দিলেন লিওনেল মেসি। ৩-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনা আট বছর পর ফের ফাইনালের মঞ্চে।   লাউতারো মার্তিনেজের অফ-ফর্ম এই বিশ্বকাপে একাদশে সুযোগ করে দেয় ২২ বছরের ম্যানসিটি স্ট্রাইকার আলভারেজকে। সে সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে এর মধ্যেই বিশ্বকাপে চতুর্থ গোলের দেখা পেয়েছেন এ তরুণ। ৩৫-এর মেসির সঙ্গে ১৩ বছরের ছোট আলভারেজের রসায়নটা জমে ক্ষীর। তাই তো তিনি মেসির আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে গোলের কাজটা করছেন ঠিকঠাক। আবার নায়ককে উপহার দিচ্ছেন পেনাল্টি।

দুটি বাধ্যতামূলক পরিবর্তন করে একাদশ সাজান আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। কার্ডে কাটা পড়া আকুনার জায়গায় লেফট ব্যাকে খেলান তাগলিয়াফিকোকে। আর ক্রোয়াটদের সঙ্গে মাঝমাঠে সেয়ানে সেয়ানে লড়তে অভিজ্ঞ পারেদেসকে খেলান লিসান্দ্রো মার্তিনেজের জায়গায়। তাতে কাজ হয়েছে, মাঝমাঠে লুকা মদ্রিচের নেতৃত্বে ক্রোয়াটরা সেভাবে আধিপত্য ফলাতে পারেনি। যা মেসি, আলভারেজকে দিয়েছে আক্রমণে ওঠার অবারিত সুযোগ। ৩৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মেসির সফল লক্ষ্যভেদের কৃতিত্ব পাবেন আলভারেজ। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বল পেয়ে আলভারেজ দ্রুত বক্সে ঢুকে টোকা দেওয়ার আগেই আগুয়ান ক্রোয়াট কিপার লিভাকোভিচ গুঁতো দিয়ে ফেলে দেন। সেই পেনাল্টির সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেসি এ বিশ্বকাপে করেন পঞ্চম গোল। গোলের হিসাবে ছুঁয়ে ফেলেন ফরাসি তারকা এমবাপ্পেকে। সব মিলিয়ে ১১ গোল করে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে ছাড়িয়ে যান। ছয় মিনিট পর প্রতিআক্রমণ থেকে ব্যবধান বাড়ান আলভারেজ। নিজেদের অর্ধ থেকে বল বাড়িয়েছিলেন মেসি। ক্রোয়েশিয়ার অর্ধের প্রায় পুরোটা দৌড়ে তিনজনকে কাটিয়ে ডান পায়ের ভলিতে বিশ্বকাপে তৃতীয় গোলের দেখা পান তিনি।

বিরতি থেকে ফিরেও একই কৌশলে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ৬৯ মিনিটে আবারও জাদুর বাক্স খোলেন জাদুকর। ধীরলয়ের মেসি বল পেয়েই সেই ট্রেডমার্ক ছুট। বাঁদিক থেকে সারাক্ষণ গায়ে গায়ে লেগে থেকেও মেসিকে রুখতে পারেননি জসকো ভারদিওল। অসাধারণ ড্রিবলিংয়ের আরও এগিয়ে ছোট্ট পাস থালায় সাজিয়ে দেন আলভারেজকে। নাম্বার নাইন তাতে আলতো টোকায় ৩-০ করেন। তাতেই লুসাইলের আরব্য রজনী নায়ক হয়ে যান মেসি।