ম্যাচের আগে দুই কোচ

দিদিয়ের দেশম

গোল হজম করেনি মরক্কো (আত্মঘাতী ছাড়া) সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত করতে চাই মরক্কোর জালে বল। দলটির ভালো ডিফেন্স করার ক্ষমতা আছে। কোনো দলই তাদের বিপক্ষে গোল করার সমাধান খুঁজে পায়নি। তবে তাদের ডিফেন্স ভাঙতে হবে আমাদের। তাদের আক্রমণ ভাগও মানসম্পূর্ণ। আমি তাদের ম্যাচ দেখেছি, তারা যে পজিশনে এসেছে সেটির প্রাপ্য তারা।

২০১৮ ও ২০২২ এর মধ্যে কী পার্থক্য

আমি তুলনা করাটা পছন্দ করি না। সবচেয়ে বড় মিল ফ্রান্স আগের মতো এবারও সেমিফাইনালে। কেউ আছেন (আগেরবারের) আবার কেউ নেই। তবে যেটি জরুরি সেই কাজটি ঠিক মতোই হয়েছে। আমাদের ডিফেন্স ভালো, গোল করার সক্ষমতা আছে।

দলের এবারের পারফরম্যান্সে বিস্মিত কি না

চমকের কিছু নেই। যা ঘটছে ম্যাচ বাই ম্যাচ হচ্ছে। এটি সত্য অনেক খেলোয়াড়ই বেশি অভিজ্ঞ নয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তবে আপনি আগে থেকে বলতে পারবেন না টুর্নামেন্টে তারা কেমন করবে। এই দলের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাজ করাটা আনন্দের। ম্যাচেই তার প্রতিফলন দেখা যায়।

মরক্কো কোচ রেগরাগুই সম্পর্কে

তারা অসাধারণ করছে। রেগরাগুই ও তার স্টাফদের অভিনন্দন। এটি স্বাভাবিক যে তারা ফাইনালে খেলার চিন্তা করছে। হ্যাঁ, পরিসংখ্যান, তাদের বিপরীতে বলতে পারেন। কিন্তু কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আমার কর্মীদের সঙ্গে (মরক্কোর) ম্যাচ চলাকালীন আমি যা দেখেছি তা নিশ্চিত করতেই তারা এখানে এসেছে।

মরক্কো বহু সমর্থকের সামনে খেলবে সেই বিষয়ে

আমি শত্রুতা শব্দটি পছন্দ করি না। আমি বরং এখানে উৎসাহের কথাটাই বলব। খেলোয়াড়দের এ বিষয়ে সতর্ক করা আছে। এ কারণে আমার দল গোল হজম করবে না। তবে এটি তাদের জন্য ভালো। ম্যাচের জন্য প্রস্তুতির মানে ম্যাচের সবকিছু নিয়ে প্রস্তুত হওয়া।

গ্রিজমান প্রসঙ্গে

সে এমন একজন খেলোয়াড় যে দলের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তার কৌশল দারুণ। ভিন্ন ভূমিকায় আছে গ্রিজমান তবে এটিতে তাকে বেশ মানিয়েছে। তার প্রথম কাজ বল পুনরুদ্ধার করা নয়। সে ম্যাচের গতি বদলানোর ক্ষমতা রাখে। বড় পর্যায়ে সে দশ বছর ধরে খেলছে। তার এর চেয়েও খারাপ সময় গেছে। তার এমন মানসিকতা আছে যে দরকারের সময় নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে পারে।

ম্যাচকে ঘিরে রাজনৈতিক বিষয়ে

আমি খেলার মাঠে আছি। এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আর ফুটবল ম্যাচ হিসেবেই থাকা উচিত। ইতিহাস আমরা জানি তবে অ্যাথলেট হিসেবে আমার জায়গাতেই থাকতে চাই।

ফ্রান্স দলের এতদূর আসার রহস্য

আমরা মাত্র অর্ধেক পথ পেরিয়েছি। এখন পর্যন্ত সব ঠিক আছে। এর পেছনে কোনো রহস্য নেই। এটি অনেক কিছুর মিশ্রিত ফল। সর্বপ্রথম বিষয়টি হলো খেলোয়াড়দের মান। অন্য বিষয়গুলো হলো দলগত শক্তি, লক্ষ্যে অটুট থাকা এবং ম্যাচ খেলা।

ওয়ালিদ রেগরাগুই

মরক্কোর লক্ষ্য প্রসঙ্গে

আমরা বিশ্বকাপ জিততে চাই। শুধু বলার জন্য বলা নয়, সত্যি চাই আরও পথ পেরোতে। হয়তো পরে আর এ সুযোগ নাও আসতে পারে।

নিজেদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে

আমরা ফেভারিট নই। তবে আত্মবিশ্বাসী। হয়তো এটি পাগলামি মনে হতে পারে, তবে কিছুটা পাগলামি করা ভালো।

পজিশন ধরে রেখে খেলা প্রসঙ্গে

আমরা নিজেদের শক্তির জায়গাটা দিয়েই খেলব। বল পজিশন ধরে রাখার বিষয়টি ফুটবল সাংবাদিকরা পছন্দ করছেন। তবে এটি ভালো নয় যদি মাত্র দুটি শট অন টার্গেট থাকে।

ফ্রান্সকে আটকানো প্রসঙ্গে

ফ্রান্স যদি আমাদের বল পজিশন দেয় আমরা সেটি সাদরে গ্রহণ করব। তিন্তু আমার মনে হয় না তারা এমনটি করবে। আমরা তাদের রুখে দেওয়ার চেষ্টাটাই করব।

ম্যাচ পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে

(বিরক্ত হয়ে) পরিসংখ্যান নিয়ে আর (প্রশ্ন) নয়। আমি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে বলব ৬০ শতাংশের বেশি সময় বল পজিশন রাখলে বাড়তি পয়েন্ট দিতে।

বিশ্বকাপ জয় প্রসঙ্গে

শুরুতে আমাদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ছিল ০.০১ শতাংশ, এখন যা ১২ শতাংশ। এক রিপোর্টার আমাকে এমনটি বলেছেন। আমরা এর ওপর কাজ করব।

সমালোচনা নিয়ে

আমাদের খেলার ধরন নিয়ে অনেক ইউরোপিয়ান সাংবাদিক সমালোচনা করছে। আমার মনে হয় এটি তারা সইতে পারছে না যে আফ্রিকান একটি দল এমনভাবে খেলছে যেভাবে তারা খেলে।

সবশেষে

প্রতি রাউন্ডের আগেই অনেকে ভাবেন আমরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাব। কিন্তু আমরা এখন সেমিফাইনালে। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব।