নভেম্বরের রবিবার শুরু হওয়া বিশ্বকাপের পর্দা নামছে ডিসেম্বরের রবিবারে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের। তবে তার তার আগেরদিন শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবে মরক্কো। প্রিয় দলের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি সেই দল বিশ্বকাপ খেলে কত টাকা আয় করছে, সেটা নিয়েও দর্শকদের আগ্রহের কমতি নেই।
ফাইনালে শিরোপা জয়ী দল ট্রফির সঙ্গে জিতে নেবে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৪৩৮ কোটি টাকা। আর পরাজিত দলের ঘরে ঢুকবে ৩ কোটি ডলার বা ৩১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ রানার্স-আপ দলের চেয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি পাচ্ছে চ্যাম্পিয়নরা!
বাদ যাচ্ছে সেমিফাইনালের পরাজিত দুই দলও। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ২৮২ কোটি টাকা। চতুর্থ স্থান অধিকারী দল পাবে আড়াই কোটি ডলার বা ২৬১ কোটি টাকা
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২ দলের মধ্য থেকে কাপ জিতে একটি দলই। তবে কোনো দলই খালি হাতে দেশে ফেরে না। কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই যে দেশগুলি বিদায় নিয়ে, তারা প্রত্যেকে ৯০ লাখ ডলার বা ৯৪ কোটি টাকা করে পেয়েছে। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পেয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৩৫ কোটি টাকা। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দল ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ১৭৭ কোটি টাকা আয় করেছে।
এ বারের বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ৪৪ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫ হাজার ৯৫৬ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার টাকা) পুরস্কারমূল্য দেবে ফিফা। গত বারের থেকে ৪ কোটি ডলার বেশি। ২০১৪ বিশ্বকাপে ৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার পুরস্কারমূল্য ছিল। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দেশই কিছু না কিছু অর্থ পাবে। যত বেশি এগিয়ে যাওয়া যাবে, ততই পুরস্কারের অর্থ বাড়ে।
২০১৮ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স পেয়েছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। রানার্স আপ ক্রোয়েশিয়ার ঘরে ঢুকেছিল ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে ট্রফিজয়ী দল কখনোই ১ কোটি ডলারের বেশি পায়নি। প্রায় প্রতি বছরই ফিফা পুরস্কারমূল্য বাড়াচ্ছে। ১৯৮২ সালে যেখানে ফিফার মোট পুরস্কারমূল্য ছিল ২.২ মিলিয়ন ডলার বা ২২৯ কোটি টাকা, সেটাই ৩০ বছরে বেড়ে গিয়েছে কয়েকশো গুণ।