১৯৭১-এর নারকীয় মাচের্র পরপরই সুদূর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড লিখল: প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ক্ষমতা [ট্যাংক, গোলন্দাজ বাহিনী ও যুদ্ধবিমান] দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের শহরগুলোয় সাময়িক বিজয় তিনি হয়তো দেখাতে পারবেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সেনাঘাঁটি থেকে হাজার মাইল দূরে তার সেনাদল দিয়ে তিনি কেমন করে আশা করেন যে গেরিলা যোদ্ধাদের পরাস্ত করবেন। যে যুদ্ধ তেতে উঠবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের শক্তিতে, যে যুদ্ধ চলতে থাকবে অনির্দিষ্টকাল ধরে পূর্ব পাকিস্তানের দুর্গম গ্রাম্য প্রান্তরে।
ইতিহাসের জঘন্য রক্তাক্ত অধ্যায়ে ব্রিটিশরা আয়ারল্যান্ডে যা করেছে, ফরাসিরা আলজেরিয়াতে যা করেছে এবং এ ধরনের আরও অনেক ঘটনার ব্যাপারে অন্ধ থেকে ইয়াহিয়া খান সেনাবাহিনীর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সংহতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। এ এক অসম্ভব উদ্যোগ। মৃত-জাত গণপরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করা শেখ মুজিবর সামরিক শাসন জারির পর পূর্ব পাকিস্তানে কার্যত একটি বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার কর্তৃত্ব প্রদর্শন করেছেন এবং সম্ভাব্য কনফেডারেশনের স্বার্থে তিনি বিশেষভাবে নমনীয় থেকেছেন। কেবলমাত্র প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন। আলোচনা ভেঙে যাওয়ার দায় প্রেসিডেন্টেরই, তিনি পশ্চিম পাকিস্তানি সংখ্যালঘু স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের রায়কে অস্বীকার করেছেন। এর চূড়ান্ত পরিণতি এরই মধ্যে ভেঙে পড়া পাকিস্তানের ভাঙনটা যৌক্তিকীকৃত হবে।
ওয়াশিংটন পোস্ট মার্চেই লিখল : পশ্চিম পাকিস্তান সরকার পূর্বাংশে ঢাকার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি জানিয়েছে। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অর্থবহ রাজনৈতিক আনুগত্য লাভের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি অলীক কল্পনামাত্র। কিছুকাল আগেও ঢাকায় মধ্যপন্থিদের ধারণা ছিল, পাকিস্তান ফেডারেশনের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে চলবে। মধ্যপন্থিরা নীরব হয়ে গেছে, কারণ দেশজুড়ে রাজনৈতিক অনুভূতির জোয়ার এখন পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশ মানে বাঙালিদের দেশ। সহস্র মাইল ভারতীয় ভূখ-ের দ্বারা আগে থেকেই বিচ্ছিন্ন বাংলা। সেই সঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা এবং সবশেষে এই রক্তপাত পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাবের সঙ্গে বাংলার দূরত্ব আরও বাড়িয়েই দিয়েছে। এ সময় বাঙালিদের প্রতিরোধের ধরন কেমন হবে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না, ঘটনাই বলে দেবে পরিণতি কী।
যুক্তরাষ্ট্র সাম্যবাদবিরোধী শক্তি হিসেবে পাকিস্তানকে এত বছর ধরে যেভাবে অস্ত্রে সজ্জিত করছে এবং উন্নয়নের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে, তা যে কতটা অপ্রাসঙ্গিক, বহিরাগত ব্যক্তিরা যে চোখ দিয়ে পাকিস্তানকে দেখছে, তাতে এটা স্পষ্টই ধরা পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রগ্রহীতা সরকার নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই সেই অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়, কিন্তু আসল ট্র্যাজেডি তো পাকিস্তানেরই।
সেই মার্চেই নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে : ‘স্রষ্টা ও অখ- পাকিস্তানের নামে’ পশ্চিম পাকিস্তানি প্রাধান্যের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ওপর নির্মম সেনা আক্রমণ চালিয়ে স্রষ্টা ও পাকিস্তান উভয়কেই অসম্মানিত করেছে। বাঙালিরা পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে নিজেদের জন্মভূমির জন্য বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছিল। (২৫ মার্চের) সেনা আক্রমণের সময় যেসব সংবাদদাতা ও কূটনীতিক পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী শহর ঢাকায় অবস্থান করছিলেন, তারা যে বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে নিরস্ত্র জনতার ওপর নোংরা সামরিক আক্রমণে যে ‘ঐক্য’ সৃষ্টি হবে, তার যে আদল, তা অর্থহীন হবে, এর কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকবে না। পূর্ব পাকিস্তানের ‘মুসলমান ভাই’দের ওপর পশ্চিমা বাহিনীর যে বর্বরতা প্রত্যক্ষ করা গেছে, তা বাঙালিদের পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার এবং দুই অংশের মধ্যে যে সমঝোতা সম্ভব নয়, সেই যুক্তিকেই প্রতিষ্ঠিত করে।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সজ্জিত করতে ও প্রশিক্ষণ দিতে যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের এখন বিশেষ দায়িত্ব হচ্ছে ইয়াহিয়া সরকারকে যেকোনো ধরনের সামরিক সহায়তা প্রদান স্থগিত রাখা। কেবল এই শর্তে অর্থনৈতিক সাহায্য অব্যাহত রাখা যেতে পারে যে পূর্ব পাকিস্তানে সৃষ্ট ক্ষতের উপশম করতে প্রদত্ত সহায়তার সিংহভাগ ব্যয় করতে হবে।
১ এপ্রিল সুইডেনের এক্সপ্রেসেন লিখেছে : সত্য গোপন করার জন্য সামরিক সরকারের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আমরা এখন জানি পূর্ব পাকিস্তানে কী ঘটছে। শরণার্থীরা ব্যাপক গোলাবর্ষণ, বেপরোয়া ধ্বংসযজ্ঞ এবং গণহত্যার সাক্ষ্য দিয়েছে।
শত সহস্র মানুষ তাদের ঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ হানা দিয়েছে। পাকিস্তানের ঐক্য অটুট রাখতেই হবে এই প্রণোদনার নামে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতি শক্রতার অস্ত্র প্রয়োগ করা হচ্ছে। দেশের প্রথম সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল ভ-ুল করে দেওয়ার পর জন্য সামরিক জান্তা সহিংস শক্তি প্রয়োগ করে চলেছে। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল হজম করার প্রস্তুতি পাকিস্তানি শাসকদের ছিল না। উল্টো সামরিক বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে। এটা স্পষ্ট, এই পদ্ধতিতে কখনোই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের পুনর্মিলন ঘটানো সম্ভব হবে না। নির্মমভাবে অধিকার প্রতিষ্ঠা অথবা যুদ্ধএ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ার জাম্বিয়া ডেইলি মেইল উল্লেখ করেছে: ট্যাংক, গোলা, দুর্ভিক্ষ মানুষের কা-জ্ঞানহীন জীবননাশের এই বাস্তবতায় বিশ্বকে অবশ্যই সজাগ হতে হবে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সরকার পূর্ব পাকিস্তানে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। কয় মাস আগে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্বে গুলিবিদ্ধ হয়ে, অনাহারে ও রোগে ভুগে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। মৃতের প্রকৃত সংখ্যা কত জানা যায়নি; হয়তো কখনোই জানা যাবে না। পাকিস্তানের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মার্শল টিটোর দেশ যুগোশ্লাভিয়ার ভেচের্নিয়ে নোভোস্তি লিখেছে পাকিস্তান বেয়নেটের সাহায্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনছে : বাঙালিদের স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্দোলনের জবাবে সামরিক আক্রমণের তিন মাস পর এই প্রথম বিদেশি সাংবাদিকদের পূর্ব পাকিস্তানে ঢুকতে দেওয়া হয়। চাপিয়ে দেওয়া সফরসঙ্গী ছাড়াই তারা ঘুরে দেখার অনুমতি পেয়েছেন। যদিও এতদিন ধ্বংসের আলামত সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তারপরও যেটুকু রয়ে গেছে, তা আগের নৃশংসতার সাক্ষ্য দিতে যথেষ্ট।
রাজধানী শহর ঢাকা এখনো আতঙ্ক, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের ছায়ায় ঢাকা। রাস্তায় লোকজন ফিসফিস করে কথা বলে। অসমান রাস্তায় গাড়ি তেমন বেরই হয় না। এটাকেই সরকার বলছে ‘স্বাভাবিক অবস্থা’। স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ভয়াবহ শাস্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। গোপনে কেউ যদি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র শোনে, কঠোর শাস্তি হয় তার। অধিকাংশ দোকানপাট এখনো বন্ধ। গাড়ির নম্বরপ্লেটে বাংলা মুছে ইংরেজি লেখা হয়েছে। খালি রাস্তায় ও দোকানে মানুষ ফিসফিস করে কথা বলে। সেনাবাহিনী এখনো বাঙালিদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, গ্রেপ্তার করছে এবং কখনো কখনো হত্যাও করছে।
যদিও ট্যাংক ও রকেটের আলামত সরিয়ে ফেলা হয়েছে, ধ্বংসের ও আতঙ্কের ছাপ রয়ে গেছে পুরান ঢাকায়। শহরের সবচেয়ে গরিব শ্রেণির মানুষ এখানে বসবাস করে এবং তারা আওয়ামী লীগের একান্ত সমর্থক। অবিশ্বাস্য শ্লথগতিতে হাটবাজার ও নোংরা সরু রাস্তায় জীবন ফিরে আসছে। এখানকার অধিকাংশ মানুষ হিন্দু, তারা নির্মমভাবে খুন হয়েছে, না-হয় ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। ঢাকার রাস্তায় সেনাসদস্য তেমন নেই; রয়েছে বিশেষ পুলিশ স্কোয়াড। ভালো করে তল্লাশি করতে তাদের পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে। সেখানে গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। বন্দুকের মুখে যে ৬৫ লাখ পাকিস্তানি ভারতে পালিয়ে গেছে তাদের ৪০ লাখই হিন্দু।
নিউজউইক জুলাই মাসে লিখছে বাঙালিরা পাল্টা আঘাত করছে : ৩০ হাজার গেরিলার আক্রমণ সামলাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কৌশল কতটা সফল হবে তা নিয়ে অনেক সন্দেহ রয়ে গেছে। কোনো সন্দেহ নেই টিক্কা খান যেখানে সেনাবাহিনী জড়ো করতে চাইবেন সেখানে সেনাবাহিনী কর্তৃত্বে থাকবে। কিন্তু অন্যত্র পাকিস্তানি বাহিনীর সে সম্ভাবনা নেই। পূর্ব পাকিস্তানের সাত কোটি মানুষের মধ্য থেকে মুক্তিবাহিনী কেবল নিতেই পারবেজ্জকিধ‘ এই বিশাল জনসংখ্যাকে ভয় দেখিয়ে নতুন করে সহিংসতার শক্তি বাড়িয়ে বশীভূত করা অনেক দূরের ব্যাপার।
একজন পশ্চিমা কূটনীতিবিদ জেঙ্কিন্সকে বলেছেন, ফল হয়েছে ঠিক উল্টো। বাঙালি ভয় পেয়েছে সন্দেহ নেই। কিন্তু বাঙালির ঘৃণাও এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যা আগে কখনো ছিল না। এখন বাঙালি বুঝতে পারছে সহিংসতা ছাড়া মুক্তির পথ খোলা নেই।’
ডিসেম্বর স্বাধীনতা আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতির মাস : ২ ডিসেম্বর বিবিসি বলছে: গেরিলা আক্রমণের তীব্রতা ও পরিধি বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে, কেবল ঢাকা শহরেই কমপক্ষে দুই হাজার গেরিলা সক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন সর্বশেষ ঘটনায় ঢাকায় ছোট অস্ত্রের গুলির শব্দ শোনা গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। বুলেটে জখম বহুসংখ্যক লোককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন সেনাসদস্য রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি পেট্রোলপাম্প উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরদিনই আনুষ্ঠানিক যুদ্ধের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান ও ভারত। দ্রুত তলিয়ে যেতে থাকে পাকিস্তান।
১২ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিবিসির সংবাদ : পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার আশপাশে ভারতীয় প্যারাট্রুপার নামানো হয়েছে, পদাতিক বাহিনী চারদিক থেকে শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাকব জানিয়েছেন, গতকাল পরিচালিত বিমান আক্রমণ সফল হয়েছে। এর বেশি কিছু তিনি বলতে সম্মত হননি। তবে ভারতীয় কমান্ডার বলেছেন, তার বাহিনী মেঘনা নদী অতিক্রম করেছে এবং এখন শহরের ২০ মাইল (৩২ কিলোমিটার) এলাকার মধ্যে পৌঁছে গেছে। তবে তাদের প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ভারতীয় বাহিনী জানাচ্ছে, কুমিল্লার সব নদী ও শাখানদী এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং মুক্তিবাহিনীর গেরিলা ইউনিট ঢাকায় খুবই সক্রিয়। শহরের ভেতর লড়াই চলছে।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিবিসি : পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ শেষ হয়ে আসছে। রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি হয়েছে এবং ভারতীয় বাহিনী রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করেছে। পাকিস্তান বলেছে, স্থানীয় ভারতীয় ও পাকিস্তানি কমান্ডারদের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস গান্ধী সংসদে বলেছেন, দু-পক্ষের প্রতিনিধি ঢাকায় আত্মসমর্পণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। পাকিস্তানের পক্ষে এই চুক্তি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। তিনি বলেন, ভারত আশা করে, পূর্ব পাকিস্তানিদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি পাকিস্তানে আটক রয়েছেন, নিজ দেশের মানুষের মধ্যে তার আসন গ্রহণ করবেন এবং বাংলাদেশকে শান্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। মিসেস গান্ধী বলেন, ভারতীয় বাহিনী প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় সেখানে অবস্থান করবে না। তিনি আরও যোগ করেন, লাখ লাখ শরণার্থী ইতিমধ্যেই দেশের পথে পা বাড়িয়েছে।
সত্তরের নির্বাচনই স্বাধীনতার রায় দিয়েছিল, আর পাকিস্তানের কথিত অজেয় সৈন্যদের ঢাকার ধূলি চুম্বনের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সেই রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটল, কিন্তু মূল্য দিতে হলো অনেক বেশি।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক