পাবনার ঈশ্বরদীতে ঋণসংক্রান্ত মামলায় ৩৭ কৃষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও ১২ কৃষক গ্রেপ্তারের ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো ভুল পায়নি বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার জন্য কৃষকদের দায়ী করা হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধ করেই কৃষকদের মামলা থেকে মুক্তি পেতে হবে।
ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর গত বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) তদন্ত কমিটি ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপকের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ও বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (পরিদর্শন ও আইন) মো. আহসানুল গণি শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সব দিক বিবেচনা করেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আহসানুল গণি বলেন, কৃষকেরা ঋণ পরিশোধের যে কথা গণমাধ্যমে বলেছেন, তা সঠিক নয়। প্রত্যেক কৃষক ৪০ হাজার টাকা করে সমিতির মাধ্যমে ঋণ নেন। ভাড়ইমারি উত্তরপাড়া সবজিচাষি সমবায় সমিতির ৪০ কৃষককে মোট ১৬ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধ না করায় ৩৭ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিন কৃষক টাকা পরিশোধ করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলায় হয়নি। এখানে ব্যাংকের কোনো ভুল নেই।
ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামে ‘ভাড়ইমারি উত্তরপাড়া সবজিচাষি সমবায় সমিতি’ নামে কৃষকদের একটি সমিতি রয়েছে। এই কৃষকেরা বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক থেকে ১৬ লাখ টাকা ঋণ নেন।
কৃষকদের দাবি, তারা এই ঋণের ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে সমবায় ব্যাংক আরও ১৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে এবং ঋণের শর্তভঙ্গের দায়ে প্রতারণার মামলা করে। মামলায় আদালত ৩৭ কৃষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এরপর পুলিশ ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে গত ২৫ নভেম্বর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। ২৭ নভেম্ববর গ্রেপ্তার ১২ জনসহ ৩৭ কৃষক জামিনে মুক্তি পান। পরে ঘটনা তদন্তে সমবায় ব্যাংক তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির প্রধান আহসানুল গণি বলেন, তদন্ত কমিটির কাছে কৃষকেরা ঋণের নির্ধারিত পরিমাণ টাকা পাননি বলে জানিয়েছেন। তারা এর জন্য সমিতির নেতাদের দোষারোপ করেছেন। কিন্তু নিজেদের পক্ষে যৌক্তিক কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। ফলে ঋণের টাকা পরিশোধের পরেই তারা মামলা থেকে মুক্তি পাবেন।