১৫ বছর ধরে আধুনিক প্যাথলজিতে ইসিজি করেন ঝাড়ুদার

মোংলায় আধুনিক প্যাথলজিতে ইসিজির কাজ করেন একজন ঝাড়ুদার/আয়া। ওই বৃদ্ধা মূলত আধুনিক প্যাথলজিতে ঝাড়ুদার/আয়ার চাকরি করেন। প্যাথলজিতে আসা রোগীর ইসিজি ওই ঝাড়ুড়ার নিজেই করার বিষয়টি ফাঁস হলে এ নিয়ে রোগী সাধারণসহ স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান সোহেল জানান, শুক্রবার দুপুরে ইসিজি করানোর জন্য তিনি পৌর শহরের ১ নম্বর জেটি সংলগ্ন ঘোষ ডেয়ারির মোড়ে সামাদ কমপ্লেক্সের আধুনিক প্যাথলজিতে যান। সেখানে যাওয়ার পর প্যাথলজির ঝাড়ুদার বেগম (৬৫) তার ইসিজি করেন। বৃদ্ধা ইসিজি করায় তাতে তার সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তিনি আশপাশে খোঁজখবর নিয়ে দেখেন ওই বৃদ্ধা অনভিজ্ঞ ও সেখানকার ঝাড়ুদার। বিষয়টি জানাজানি হলে আধুনিক প্যাথলজি নিয়ে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

ঝাড়ুদার বেগম বলেন, আমি আধুনিক প্যাথলজিতে আয়ার চাকরির পাশাপাশি ফাঁকে ফাঁকে ইসিজিও করি। আমাকে দিয়ে করালে আমার দোষ কি, আমি তো এখানে চাকরি করি। তার কোনো অভিজ্ঞতা আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে করতে করতে শিখেছি, বাস্তব কোনো অভিজ্ঞতা ও সনদ নেই।

আধুনিক প্যাথলজির মালিক অনিমেষ সাহা বলেন, লোক ছিল না তাই বেগম করেছে, সে করতে পারে। সে এখানে আয়ার চাকরিও করেন। যদিও তাকে দিয়ে এটা করানো ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, এখানকার সবগুলোতেই এমন অনভিজ্ঞ লোকেই তো করছে, তাদের কেউই তো অভিজ্ঞ নন। এটা আবার লিখবেন কেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন বলেন, ঝাড়ুদার দিয়ে ইসিজি করে ঠিক করেনি আধুনিক প্যাথলজি। এর জন্য অবশ্যই একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক থাকতে হবে। এ বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। 

বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি এবং ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত কর্মকর্তাকেও বলছি এখনই।