বিএনপির দাবি

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ভাঙচুর-লুটপাটে’ অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ভাঙচুর ও লুটপাটে’ ৫০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতির এ তথ্য তুলে ধরেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে চাল উদ্ধারের যে দাবি পুলিশ করেছে, তা মিথ্যা। মামলার এজাহারেও চালের কথা নেই। বিজয়ের মাসে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান শুধু বিজয়ের মাসকে কলঙ্কিত করেনি, গণতন্ত্র হত্যাকারী ও বারবার গণতন্ত্র হত্যায় সহায়তাকারী বর্তমান ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারের অগণতান্ত্রিক, কর্র্তৃত্ববাদী ও গণবিরোধী পরিচয় উৎকটভাবে পুনরায় প্রকাশ করেছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দলীয় কার্যালয়ে চেয়ারপারসন, মহাসচিবসহ নেতাদের এবং অঙ্গসংগঠনের অফিস কক্ষ ভেঙে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন দ্রব্য লুট ও ভাঙচুর করা হয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল, সিসি ক্যামেরাসহ আসবাব নষ্ট করা হয়েছে। অফিস থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক, নথিপত্র, ব্যাংকের কাগজপত্র, নগদ অর্থ লুট করা প্রকৃতপক্ষে একটি ডাকাতির ঘটনা। নগদ অর্থসহ ক্ষতি ও ‘লুট হওয়া’ সম্পদের পরিমাণ ৫০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা। কোনো অফিস বা গৃহ তল্লাশির সময় মালিকপক্ষ এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে রাখার সাধারণ আইন অগ্রাহ্য করে পুলিশ।’

কার্যালয়ে হামলা ঢাকতে ককটেল রেখে পুলিশ তা উদ্ধারের নাটক সাজায় দাবি করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘ওই দিন পুলিশ সাদা ব্যাগে করে নিজেরাই ককটেল নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে রেখে তা উদ্ধারের নাটক করেছে। পুলিশ নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে ককটেল উদ্ধারের নাটক সাজিয়েছে। যেকোনো সভ্য দেশে এমন সব ঘটনা শুধু অপ্রত্যাশিত ও অনভিপ্রেত নয়, এমন বর্বরতা ও ষড়যন্ত্রমূলক নিষ্ঠুরতা তীব্রভাবে নিন্দনীয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই ঘটনার পরদিন পুলিশ যে চারটি মামলা করে, তাতে ৪৫০ জনের নাম উল্লেখ করে দেড় থেকে দুই হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তার রেশ ধরে ঢাকার বাইরেও চলছে গ্রেপ্তার অভিযান। গত কয়েক দিনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের তথ্য পেয়েছে বিএনপি।’

পুলিশের করা মামলাগুলোর বিষয়বস্তু তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা ইটপাথর, বাঁশের লাঠি এবং ককটেল নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করেছে। পুলিশের এসব অভিযোগ দেশের জনগণ আর বিশ^াস করে না। পুলিশ ১৭৯টি টিয়ার গ্যাস ও ৪৬০টি শর্টগানের গুলি ছুড়েছে এবং ছয়টি সাউন্ড বোমা নিক্ষেপ করেছে। প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এমন অসমযুদ্ধের বিবরণ ছোটদের গল্প কিংবা স্বৈরাচারী শাসকদের প্রেসনোটেই শুধু দেখা যায়।’

গণমিছিল পেছানো দুর্বলতা নয়, উদারতা : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের কথা বিবেচনা করে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে গণমিছিলের কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া বিএনপির দুর্বলতা কিংবা নমনীয়তা নয়, এটা উদারতা বলে উল্লেখ করেন দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তাদের সম্মেলন উপলক্ষে আমাদের অনুরোধ করেছে বা আহ্বান জানিয়েছে। তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে কর্মসূচি পেছানো হয়েছে। কারণ বিএনপি সংঘাত চায় না। বিএনপির গণতান্ত্রিক চরিত্র হিসেবে গণমিছিলের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। এটা কারও প্রতি নমনীয়তা নয় বা কারও অনুরোধে নয়। বিএনপি মধ্যপন্থি গণতান্ত্রিক দল।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।